প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অন্ধকারের আফ্রিকা.djvu/১০৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ন্যাসালেণ্ড ১৯৩৮ সালের জুন কি জুলাই মাসের শেষ ভাগে টাংগানিয়াকা ভ্ৰমণ সমাপ্ত করে যেদিন মায়া ( Mygh ) নামক স্থানে এসে পৌঁছলাম সেদিন হঠাৎ দেশের কথা মনে হ’ল। কখন বৃষ্টি, কখন উত্তপ্ত সূৰ্য কিরণের কাঠ-ফাটা তেজ আৰু কখন বা আকাশ কাল কয়ে মেঘ এবং অনবরত বজ্রপাত ! ধান কাটা হয়ে গেছে । বাজারে নিগ্রেী রমণীরা টুকরীতে করে চাল নিয়ে এসেছে। চাল বিক্রি হবে তারপর নিগ্রো স্ত্রীলোকেরা সওদা কিনে বাড়ীতে যাবে। আমাদের দেশের কয়েকটি স্ত্রীলোক একত্র হলেই হট্টগোলের সৃষ্টি করে কিন্তু এরা সেরূপ করে না ; কেউ কথা বলছে না। এর শৃংখলা বজায় রাখে, ধৈর্য আছে, আর আছে আত্ম-স্বান। কোন ইউরোপীয় অথবা ভারতীয় ওদের দিকে বক্র দৃষ্টিতে চাইতে ও সাহস করে না। অথচ প্রত্যেকটি স্ত্রীলোক দিগম্বী। দিগম্বরীদের ফটো তুলবার কারো অধিকার নাই। তবে তারা কি প্রত্যেকেই এক এক • জন মাটির কালী মৃতি ? তা নয়। তাদের পুরুষেরা সকল সময়ই তাদের রক্ষা করার জন্য প্ৰাণ দিতে, প্ৰস্তুত। পিস্তল বল, ছােরা বল, আর রামদা বল কিছুতেই ওরা ভয় খায় না। আরব এদের কাছে হার মেনেছে, পতুগীজ এদের ভয়ে পালিয়ে গেছে, জার্মাণ ওদের স্ত্রীলোকের স্বাধীনতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিল, আর বৃটিশ মুগ্ধ খুলে কিছুই বলে না। ন্যাসাদের স্ত্রী স্বাধীনতা দেখলে মনে হয়। ভারতের স্ত্রীলোক যেন ভারতের পুরুষদের দাসী হয়েই জন্মগ্রহণ করেছে।