প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১০০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SOO অপরাজিত 'প্ৰভুত্ব জাহির করার চেষ্টা, এমন তাচ্ছিল্যের ভাব-এই রকম সে একমাত্র অতসাঁদিতে দেঞ্ছিছে! একদিন সে ছাত্রীর একটা রপা-বাঁধানো পেন্সিল হারাইয়া ফেলিল। পকেটে ভুলিয়া লইয়া গিয়াছিল, কোথায় ফেলিয়াছে, তারপর আর কিছ খেয়াল ছিল না, পরদিন প্রীতি সেটা চাহিতেই তাহার তো চক্ষস্থির! সঙ্কুচিতভাবে বলিলকোথায় যে হারিয়ে ফেললাম-কাল বরং একটা কিনে প্রীতি অপ্রসন্ন মুখে বলিল, ওটা আমার দাদামণির দেওয়া বাৰ্থডে গিফট 团一 ইহার পর আর কিনিয়া আনিবার প্রস্তাবটা উত্থাপিত করা যায় না, মনে মনে ভাবিল, কাল থেকে ছেড়ে দেবো -এখানে আর চলবে না । কি একটা ছটির পরদিন সে পড়াইতে গিয়াছে, প্রীতি জিজ্ঞাসা করিল, কাল ষে আসেন নি ? 'Y অপ বলিল, কাল ছিল ছটির দিনটা-তাই আর আসিনি। প্রীতি ফাট করিয়া বলিয়া বসিল-কেন, কাল তো আমাদের সরকার, বাইরের দ’জন চাকর, ড্রাইভার সব এসেছিল ? আমার পড়াশানো কিছ হ’ল না, আজি ডিটেন করে রাখলে পাঁচটা অবধি । অপর হঠাৎ বড় রাগ হইল, দঃখও হইল। খানিকক্ষণ চুপ করিয়া থাকিয়া বলিল, আমি তোমাদের সরকার কি রাধানীঠাকুর তো নাই, প্রীতি ! কাল স্কুলকলেজ সব বন্ধ ছিল, এজন্য ভাবলাম আজ যাত্মা না । আমার যদি ভুলই হয়ে থাকে-তোমার সেই রকম মাস্টার রেখো, যিনি এখানে বাজার-সরকারের মত থাকবেন । আমি কাল থেকে আর আসব না বলে ধাচ্ছি । বাড়ির বাহিরে আসিয়া মনে হইল-দেওয়ানপরের নিমিলাদের কথা । তাহারাও তো অবস্থাপন্ন, তাহদের বাড়িতেও সে প্রাইভেট মাস্টার ছিল, কিন্তু সেখানে সে ছিল বাড়ির ছেলের মত-নিমালার মা দেখিতেন ছেলের চোখে, নিমালা দেখিত ভাইয়ের চোখে- সে স্নেহ কি পথেঘাটে সলভ ? নিমালার মত মমতাময়ীকে তখন সে চিনিয়াও চেনে নাই, আজ নতুন করিয়া তাহাকে আর চিনিয়া লাভ কি ? আর লীলা ? সে কথা ভাবিতেই বাকের ভিতরটা যেন কেমন করিয়া উঠিল-যাক is so হাতের টাকায় কিছুদিন চলিল। ইতিমধ্যে কলেজে একটা বড় ঘটনা হইয়া গেল, প্রণব লেখাপড়া ছাড়িয়া কি লাকি দেশের কাজ করিতে চলিয়া গেল । সকলে বলল, সে এনাকি সিটি দলে যোগ দিয়াছে । প্রণব চলিয়া যাওয়ার মাসখানেক পর একদিন অপ, হোটেলে খাইতে গিয়া দেখিল, সন্দির-ঠাকুর হোটেলওয়ালার মখ ভার-ভার। দস্তিন মাসের টাকা বাকী, পাওনাদার আর কতদিন শোনে ? আজি সে সপশিষ্ট জানাইল, দেন। শোধ না করিলে আর সে খাইতে পাইবে না । বলিল-বাব, অন্য খদের হলে মাসের পয়ালাটি যেতে দিই নৌ-ওই কৃগোটাবাব খায়, ওদের পাটের কালের হগুটি পেলে দিয়ে দেয়-তুমি, বলে আমি কিছ, বলছি না-দ’মাসের ওপর আজ নিয়ে