প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১১৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


erslufuG ܬܠܬ উপদেশের কথা, গভীর বিবাসের কথা, ঈশ্ববর, পরলোক, অন্তরতম অন্তরের নানা গোপন বাণী । হয়ত বা তাঁহার মনে হইয়াছিল, এ বালকের মনের ক্ষেত্রে এসকল উপদেশ সময়ে অঙ্কুরিত হইবে। শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি, রাস্তার ফেরিওয়ালা হকিতেছে, পেয়ারাফুলি আম', ‘ল্যাংড়া আমা-দিনরাত টিপ, টিপ বষ্টি, পথঘাটে জল কাদা। এই সময়টার। সঙ্গে অপর কেমন একটা নিরাশ্রয়তা ও নিঃসবলতার ভােব জড়িত হইয়া আছে, আর-বছর ঠিক এই সময়টিতে কলিকাতায় নািতন আসিয়া অবলম্বন-শ্যান্য অবস্থায় পথে পথে ঘরিতে হইয়াছিল, কি না জানি হয়, কোথায় না জানি কি সংবিধা জটিবে-এবারও তাই । ঔষধের কারখানায় এবার আর স্থান হয় নাই। এক বন্ধীর মেসে দিনকতক উঠিয়াছিল, এখন আবার অন্য একটি বন্ধীর মেসে আছে। নানাস্থানে ছেলে পড়ানোর চেণ্টা করিয়া কিছুই জটিল না, পরের মেসেই বা চলে কি করিয়া ? তাহা ছাড়া এই বংশধর ব্যবহার তত ভাল নয়, কেমন যেন বিরক্তির ভােব সবাদাইতাহার অবস্থা সবই জানে। অথচ একদিন তাহাকে জিজ্ঞাসা করিয়া বসিল, সে মেস খাজিয়া লইতে এত দেরি কেন করিতেছে-এ মাসটার পরে আর কোথাও সিটি খালি পাওয়া যাইবে ? অপ, মনে বড় আহত হইল । একদিন তাহার হঠাৎ মনে হইল। খবরের কাগজ বিক্ৰয় করিলে কেমন হয় ? কলিকাতার খরচ চলে না ? মাকেও . . . অপ, সব সম্প্রধান লইল । তিন পয়সা দিয়া নগদ কিনিয়া আনিতে হয় খবরের কাগজের অফিস হইতে, চার পয়সায় বিক্ৰী, এক পয়সা লাভ কাগজ পিছ ; কিন্তু মলধন তো চাই ; কাহারও কাছে হােত পাতিতে লক্ষজা করে, দিবেই বা কে ? এই কলিকাতা শহরে এমন একজনও নাই যে তাহাকে টাকা দেয় ? সে সািদ দিতে রাজী আছে । সমীরের কাছে যাইতে ইচ্ছা হয় না, সে ভাল করিয়া কথা কয় না ! ভাবিয়া-চিন্তিয়া অবশেষে কারখানার তেণ্ডয়ারী-বৌয়ের কাছে গিয়া সব বলিল । তেওয়ারী-বোঁ সদে লাইবে না। লাকাইয়া দ'টা মাত্র টাকা ধাহির করিয়া দিল, তবে আশি বন মাসে তাহারা দেশে যাইবে, তাহার পতবে টাকাটা দেওয়া চাই । ফিরিবার পথে অপ ভাবিল-বহরে পায়ের ধলো নিতে ইচ্ছে করে, মায়ের মত দ্যাখে, আহা কি ভালো লোক ! পরদিন সকালে সে ছটিল অমতবাজার পত্রিকা অফিসে । সেখানে কাগজবিক্রেতাদের মারামারি, সবাই আগে কাগজ চায়। অপর ভিড়ের মধ্যে ঢুকিতে পারিল না-কাগজ পাইতে বেলা হইয়া গেল । তাহার পর আর এক নিতেন বিপদ --অন্য কাগজওয়ালদের মত কাগজ হকিতে পারা তো দারের কথা, লোকে তাহার দিকে চাহিলে সে সৎকুচিত হইয়া পড়ে, গলা দিয়া কোনও কথা বাহির হয়। না। সকলেই তাহার দিকে চায়, সমগ্ৰী সন্দর ভদ্রলোকের ছেলে কাগজ বিক্রয় করিতেছে, এ দশ্য তখনকার সময়ে কেহ দেখে নাই-আপ ভাবে- বা রে, আমি কি চড়কের নতুন সঙ নাকি ? খানিক দরে আর একটা জায়গায় চলিয়া যায়।