প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S8፥ অপরাজিত ধনী বংশ বটে। বাড়ির উত্তর দিকে পরাতন আমলের আবাস-বাটি ও প্রকান্ড সাতদিয়ারী পাজার দালান ভগ্ন অবস্থায় পড়িয়া আছে, ওপারে অন্যতম সরিক রামদ লােভ বড়িয্যের বাড়ি । পরাতন আমলের বসতবাটি বর্তমানে পরিত্যন্ত, রামদ লাভের ছোট ভাই সেখানে বাস করিতেন । কি কারণে তাঁহার একমাত্র পত্র নিরদেশ হইয়া যাওয়াতে তাঁহারা বেচিয়া-কিনিয়া কাশীবাসী হইয়াছেন । এ সব কথা প্ৰণবের মাখেই ক্ৰমে ক্লামে শোনা গেল । স্নানের সময়ে সে নদীতে স্নান করিতে চাহিলে সকলেই বারণ করিল- এখােন*কার নদীতে এ সময়ে ফুমীরের উৎপাত খাব বেশী, পকুরে স্নান করাই নিরাপদ । বৈকালে একজন বন্ধ ভদ্রলোক কাছারী-বাড়ির বারান্দাতে বসিয়া গল্প করিতেছিলেন, দিন-পনেরো পড়বে নিকটস্থ কোন গ্রামের জনৈক তাতির ছেলে হঠাৎ নিরদেশ হইয়া যায়, সম্প্রতি তাহাকে রায়মঙ্গলের এক নিজািন চরে অজ্ঞান অবস্থায় পাওয়া গিয়াছে। ছেলেটি বলে, তাহাকে নাকি পরীতে ভুলাইয়া লইয়া গিয়াছিল, প্রমাণস্বরূপ সে অচিলের খািট খালিয়া কাঁচা লবঙ্গ, এলাচ ও জায়ফল বাহির করিয়া দেখাইয়াছে, এ-অর্ণগুলোর ত্ৰিসীমানায় এ সকলের গাছ নাই-পরী কোথা হইতে আনিয়া উপহার দিয়াছে । প্ৰণবের মামীম দাপরে কাছে বসিয়া দজনকে খাওয়াইলেন, অনেকদিন অপর অদমেট এত যত্ন আদর বা এত ভাল খাওয়া-দাওয়া জোটে নাই। চিনি, ক্ষীর, মশলা, কপাের, ঘাত, জীবনে কখনও তাহদোন্ন দরিদ্র গহস্থলিতে এ সকলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ পরিচয় ঘটে নাই । মায়ের সংসারে চালের গড়া, গড় ও সরিষার তৈলের কারবার ছিল বেশী । অপরাজিত একাদশ পরিচ্ছেদ পরদিন বিবাহ। সকাল হইতে নানা কাজে সে বাড়ির ছেলের মত খাটিতে লাগিল । নাটমন্দিরে বরাসন সাজানোর ভার পড়িল তাহার উপর । প্রাচীন আমলের বড় জাজিম ও সতরঞ্চির উপর সাদা চাদর পাতিয়া ফরাসি বিছানো, কাচের সৌজ ও বাতির ডুম টাঙ্গানো, দেবদার পাতার ফটক বাঁধা, কাগজ কাটিয়া দম্পতির উদ্দেশ্যে আশিষবাণী রচনা, সকাল আটটা হইতে বেলা তিনটা পর্যন্ত এসব কাজে কাটিল । সন্ধ্যার সময় বর আসিবে । বরের গ্রাম। এই নদীরই ধারে. তবে দশ বারো ক্লোশ দারে, নদীপথেই আসিতে হইবে । বরের পিতা ও-অঞ্চলের নাকি বড় গতিদার, তাহা ছাড়া বিস্তৃত মহাজনী কারবারও আছে। বণের নৌকা আসিতে একটু বিলম্বব হইতে পারে, প্রথম লগ্নে বিবাহ যদি না হয়। রাত্রি দশটার লগ্ন বাদ যাইবে না।