প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S$R অপরাজিত একজন মহিলা বলিলেন-মেয়ের শিবপজোর জোর ছিল বড়বোঁ, তাই এমন বর মিললো । ভাঙা দালান যে রূপে আলো করেছে ! শােভদটির সময় সে এক অপােব ব্যাপার! মেয়েটি লক্ষজায় ডাগর চোখ দ'টি নিত করিয়া আছে, অপ, কৌতাহলের সহিত চাহিয়া দেখিল, ভাল করিয়াই দেখিল, যতক্ষণ কাপড়ের ঢাকাটা ছিল, ততক্ষণ সে মেয়েটির মািখ ছাড়া অন্যদিকে চাহে নাই-চিবকের গঠন-ভঙ্গিটি এক চমক দেখিয়াই সঠিাম ও সংস্পর মনে হইল। প্রতিমার মত রােপই বটে, চণ অলকের দািঞক গাছা কানের আশেপাশে পড়িয়াছে, হিঙ্গািল রঙের ললাটে ও কপালে বিন্দ বিন্দ ঘাম । কানো সোনার দলে আলো পড়িয়া জীবলিতেছে । বাসর হইল খাব অপেক্ষণ, রাত্ৰি অলপই ছিল। মেয়েদের ভিড়ে বাসর ভাঙিয়া পড়িবার উপক্ৰম হইল । ইহাদের অনেকেই বিবাহ ভাঙিয়া যাইতে নিজের নিজের বাড়ি চলিয়া গিয়াছিলেন, কোথা হইতে একজনকে ধরিয়া আনিয়া অপণার বিবাহ দেওয়া হইতেছে শনিয়া তাঁহারা পনরায় ব্যাপারটা দেখিতে আসিলেন । একরাত্রে এত মজা এ অঞ্চলের অধিবাসীর ভাগ্যে কখনও জোটে নাই --কিন্তু পথ-হইতে-ধরিয়া-আনা বরকে দেখিয়া সকলে একবাক্যে স্বীকার করিলেন -এইবার অপণার উপযন্ত বর হইয়াছে বটে। প্ৰণবের বড় মামীম তেজস্বিনী মহিলা, তিনি বকিয়া না বসলে ওই বায়রোগগ্রঞ্জ পাত্রটির সহিতই আজ তাঁহার মেয়ের বিবাহ হইয়া যাইত নিশ্চয়ই। এমন কি তাঁহার অমন রাশভারী সবামী শশীনারায়ণ বাঁড়িয্যে যখন নিজে বন্ধ দরজার কাছে দাঁড়াইয়া বলিয়াছিলেন-বাড়বোঁ, কি করা পাগলের মত, দোর খোলো, আমার মাখ রাখে-ছিঃ-তখনও তিনি অচল ছিলেন- । তিনি বলিলেন-মা, যখনই একে পলর সঙ্গে দেখেছি, তখনই আমার মন সেন বলেছে। এ আমার আপনার লোকছেলে তো আরও অনেক পােলর সঙ্গে এসেছে গিয়েছে কিন্তু এত মায়া কারোর উপর হয়নি। কখনও-ভেবে দ্যাখো মা, এ মাখ আর লোকালয়ে দেখাবো না ভেবেছিলাম-ও ছেলে যদি আজ পােলর সঙ্গে এ বাড়ি না। আসতো পবের সেই প্রৌঢ়া বাধা দিয়া বললেন-তা কি ক’রে হবে মা, ওই যে তোমার অপণার স্বামী, তুমি আমি কেনারাম মািখয্যের ছেলের সঙ্গে ওর। সম্মবন্ধ ঠিক করতে গেলে কি হবে, ভগবান যে ওদের দািজনের জন্যে দশজনকে গড়েছেন, ও ছেলেকে যে আজ এখানে আসতেই হবে মা প্ৰণবের মামীীমা বলিলেন-আবার যে এমন ক'রে কথা বলব তা আজি দীঘণ্টা আগেও ভাবিনি- এখন আপনারা পাঁচজনে আশীবাদ করন, যাতে-যাতে চোখের জলে তাঁহার গলা আড়স্ট হইয়া গেল । উপস্থিত কাহারো চোখ শতক ছিল না, অপও অতি কম্পেট উদগত অশ্র চাপিয়া বসিয়া রহিল। প্ৰণবের মামীমার উপর শ্রদ্ধা ও ভক্তিতে তাহার মন-মায়ের পরই বোধ হয় এমন আর কাহারও উপর-কেবল আর একজন আছেন-মেজ বৌরাণী-তিনি লীলার মা । তা ছাড়া মায়ের উপর তাহার মনোভাব, শ্রদ্ধা বা ভক্তির ভাব নয়, তাহা আরও অনেক ঘনিষ্পাঠ, অনেক গভীর, অনেক আপনা-বত্ৰিশ নাড়ীর বাঁধনের সঙ্গে