প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৬২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SR অপরাজিত চোখ। সে দেখিয়াছে, কি দিদি, কি রান-দি, কি লীলা, কি অপর্ণা—সকলেরই মধ্যে মা যেন অল্পবিস্তুর মিশাইয়া আছেন-ঠিক সময়ে ঠিক অবস্থায় ইহারা একই ধরণের কথা বলে, চোখে-মখে একই ধরণের স্নেহ ফুটিয়া ওঠে । একটি ভদ্রলোক অনেকক্ষণ হইতে প্লাটফমে পায়চারী করিতেছিলেন । ট্ৰেনে উঠবার কিছু পাবে আপ তাঁহাকে চিনিতে পারিল, দেওয়ান।পরের মাস্টার সেই সত্যেন্যবাদ। আপা থাড ক্লাসে পড়বার সময়ই ইনি আইন পাস করিয়া স্কুলের চাকুরি ছাড়িয়া চলিয়া গিয়াছিলেন, আর কখনও দেখা হয় নাই । পরন্তন ছাত্রকে দেখিয়া খশী হইলেন, অনেক জিজ্ঞাসাবাদ করিলেন, অন্যান্য ছাত্রদের মধ্যে কে কি করিতেছে শনির্ধার আগ্রহ দেখাইলেন । তিনি আজকাল পাটনা হাইকোটে" ওকালতি করিতেছেন, চালচলন দেখিয়া অপর মনে হইল।--বেশ দ’পয়সা উপাৰ্জন করেন । তবও বলিলেন, পরানো দিনই ছিল ভাল, দেওয়ান।পরের কথা মনে হইলে কািট হয় । ট্রেন আসিলে তিনি সেকেন্ড ক্লাসে উঠিলেন । অপণাকে সব ভাল করিয়া দেখাইবার জন্য শিয়ালদহ সেন্টশনে নামিয়া অপ একখানা ফিটন গাড়ি ভাড়া করিয়া খনিকটা ঘরিল ৷ অপর একটা জিনিস লক্ষ্য করিল ; অপণা কখনও কিছু দেখে নাই বটে, কিন্তু কোনও বিষয়ে কোনও অশোভন ব্যগ্রতা দেখায় না। ধীর, স্থির, সংষত, বদ্ধিমওী-“এই বয়সেই চরিত্রগত একটা কেমন সহজ গাম্ভীৰ্য-ব্যাহার পরিণতি সে দেখিয়াছে ইহারই মাঠের মধ্যে ; উছলিয়া-পড়া মাতৃত্বের সঙ্গে চরিত্রের সে কি দঢ় আটলতা । মনসাপোতা পৌঁছতে সন্ধ্যা হইয়া গেল । অপ বাড়িঘরের বিশেষ কিছ. ঠিক করে নাই, কাহাকেও সংবাদ দেয় নাই, কিছু না-অথচ হঠাৎ সস্ত্রীকে আনিয়া হাজির করিয়াছে । বিবাহের পর মাত্র একবার এখানে দদিনের জন্য আসিয়াছিল, বাড়িঘর অপরিস্কার, রাত্রিবাসের অন্য পর্যন্ত. উঠানে ঢুকিয়া পেয়ারা গাছটার তলায় সন্ধার অন্ধকারে বধ, দাঁড়াইয়া রহিল, অপ, গরর গাড়ি হইতে তোরঙ্গ ও কাঠের হাতবাক্সটা নামাইতে গেল ! উঠানের পাশের জঙ্গলে নানা পতঙ্গ কুসঙ্কর করিয়া ডাকিতেছে, ঝোপে-ঝোপে জোনাকির ঝকি জীবলিতেছে । কেহ কোথাও নাই, কেহ তরুণ দম্পপতিকে সাদরে ফরণ ও অভ্যর্থনা করিয়া ঘরে তুলিয়া লইতে ছটিয়া আসিল না, তাহারাই দজনে টানাটানি করিয়া নিজেদের পেটরা-তোরঙ্গ মাত্র দেশলাইয়ের কাঠির আলোর সাহায্যে ঘরের দাওয়ায় তুলিতে লাগিল । সে আজ কাহাকেও ইচ্ছা করিয়াই খবর দেয় নাই, ভাবিয়াছিল - মা যখন <রণ করে নিতে পারলেন না। আমার দৌকে, অতি সাধ ছিল মারি - তখন আর কাউকে বরণ করতে হবে না, ও অধিকার আর কাউকে বন্ধি দেব ? অপণা ওমানিত তাহার স্বামী দরিদ্র কিন্তু এ রকম দরিদ্র তােহা সে ভাবে নাই । তাহাদের পাড়ার নাপিত-বাড়ির মত নিচু, ছোট চালাঘর । দাওয়ার একাধারে গর বাছার উঠিয়া ভাঙ্গিয়া দিয়াছো-ছাঁচতলায় কই-বাঁচি ফুটিয়া বর্ষার জলে চারা বাহির হইয়াছে’- “একস্থানে খড় উড়িয়া চালের বাখ্যারি ঝিলিয়া পড়িয়াছে’, ‘বাড়ির