পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৬৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S8 - অপরাজিত বলিল-আমি আমাদের বাড়িতে নিয়ে গিয়ে রেখে দেব বৌকে, এখানে থাকতে দেব না ! অপ বলিল-তা হবে না, আমার মায়ের ভিটোতে সন্ধ্যে দেবে কে তাহলে ? রাত্রে তোমাদের ওঘুনে শোবার জন্যে নিয়ে যেও । নিরপেমা তাতেই রাজী। চৌদ্দ বছরের ছেলে যখন প্রথম চেলী পরিয়া তাহদের বাড়ি পজা করিতে গিয়াছিল, তখন হইতে সে অপাকে সত্য সত্য স্নেহ করে তাহার দিকে টানে। অপ ঘরবাড়ি ছাড়িয়া চলিয়া যাওয়ায় সে মনে মনে খাব দঃখিত হইয়াছিল। মেয়েরা গতিকে বোঝে না, বাহিরকে বিশ্ববাস করে না, মানষের উদ্দাম ছাটিবার বহিম খী আকাঙ্ক্ষাকে শান্ত সংস্কৃত করিয়া তাহাকে গহস্থালি পাতাইয়া, বাসা বাঁধাইবার প্রবৃত্তি নারীমানের সহজাত ধম, তাহদের সকল মাধষ, স্নেহ, প্রেমের প্রয়োগনৈপণ্য এখানে । সে শক্তিও এত বিশাল যে খািব কম পরিব্যই তাহার বিরুদ্ধে দাঁড়াইয়া জয়ী হইবার আশা করিতে পারে। অপ বাড়ি ফিরিয়া নীড় বাঁধাতে নিরপেমা, সাবস্তির নিঃশবাস ফেলিল । কলিকাতায় ফিরিয়া অপাের। আর কিছু ভাল লাগে না, কেবল শনিবারের অপেক্ষায় দিন গনিতে থাকে । বন্ধ বান্ধবদের মধ্যে যাহারা নব-বিবাহিত তাহাদের সঙ্গে কেবল বিবাহিত জীবনের গলপ করিতে ও শনিতে ভাল লাগে। কোনও রকমে এক সপ্তাহ কাটাইয়া শনিবার দিন সে বাড়ি গেল । অপণার গহিণীপনায় সে মনে মনে আশ্চর্য না হইয়া পারিল না। এই সাত-আট দিনের মধ্যেই অপণা বাড়ির চেহারা একেবারে বদলাইয়া ফেলিয়াছে । তেলি-বাড়ির বাড়ী ঝিকে দিয়া নিজের তত্ত্বাবধানে ঘরের দেওয়াল লেপিয়া ঠিক করাইয়াছে । দাওয়ায় মাটি ধরাইয়া দিয়াছে, রাঙা এলামাটি আনিয়া চারিধারে রঙ করাইয়াছে, নিজের হাতে এখানে তাক, ওখানে কুলঙ্গি গাঁথিয়াছে, তন্তপোশের তলাকার রাশীকৃত ইন্দিরের মাটি নিজেই উঠাইয়া বাহিরে ফেলিয়া গোবর-মাটি লেপিয়া দিয়াছে। সারা বাড়ি যেন ঝাঁক-ঝক তক-তক করিতেছে। অথচ অপণা জীবনে এই প্রথম মাটির ঘরে পা দিল। পবে গৌরব যতই ক্ষম হউক, তবও সে ধন্যবংশের মেয়ে, বাপ-মায়ের আদরে ললিত, বাড়ি থাকিতে নিজের হাতে তাহাকে কখনও বিশেষ কিছ: করিতে হইত না । মাসখানেক ধরিয়া প্রতি শনিবারে বাড়ি যাতায়াত করিবার পর অপ দেখিল তাহার যাহা আয় ফি শনিবার বাড়ি যাওয়ার খরচ তাহাতে কুলায় না। সংসারে দশ-বারো টাকার বেশী মাসে এ পর্যন্ত সে দিতে পারে নাই । সে বোঝে-ইহাতে সংসার চালাইতে অপণাকে দস্তুর মতো বেগ পাইতে হয়। অতএব ঘন ঘন বাড়ি যাওয়া বন্ধ করিলা । ডাকপিয়নের খাকির পোশাক যে বকের মধ্যে হঠাৎ এরােপ ঢেউ তুলিতে পারে, ব্যঞ্জ। আশার আশাবাস দিয়াই পরমহতে নিরাশা ও দঃখের অতলতলে নিমজ্জিত করিয়া দিতে পারে, পনেরো টাকা বেতনের আমহাস্ট সন্ট্রীট পোস্টাফিসের পিওন যে একদিন তাহার দঃখ-সখের বিধাতা হইবে, এ কথা কবে ভাবিয়ছিল ? পাবে। কাল-ভদ্রে মায়ের চিঠি আসিত, তাহার জন্য এরােপ ব্যগ্র প্রতীক্ষার প্রয়োজন ছিল না । পরে মায়ের মাতুত্যুর পয় বৎসরখানেক তাহাকে একখানি পত্রও কেহ দেয়