প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৭৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত চতুর্দশ পরিচ্ছেদ 核 এক বৎসর চলিয়া গিয়াছে। পানরায় পাজার বিলম্বােব অতি সামান্যই । শনিবার। অনেক আফিস আজ বন্ধ হইবে, অনেকগালি সম্মখের মঙ্গলবারে বন্ধ । দোকানে দোকানে খাব ভিড়-ঘণ্টাখানেক পথ হটিলে হ্যান্ডবিল হাত পাতিয়া লইতে লইতে ঝড়িখানেক হইয়া উঠে । একটা নতুন স্বদেশী দেশলাইয়ের কারখানা পথে পথে জাঁকাল বিজ্ঞাপন মারিয়াছে । আমড়াতলা গলির বিখ্যাত ধনী ব্যবসাদার নকুলেশবের শীলের প্রাসাদোপম সবাহৎ অট্টালিকার নিম্নতলেই ইহাদের আফিস। অনেকগলি ঘর ও দটা বড় হল কর্মচারীতে ভতি । দিনমানেও ঘরগলির মধ্যে ভালো আলো যায় না বলিয়া বেলা চারটা না বাজিতেই ইলেকট্রিক আলো জলিতেছে। ছোকরা টাইপিস্ট নিপেন সন্তপণে পৰ্দা ঠেলিয়া ম্যানেজারের ঘরে ঢুকিল । ম্যানেজার নকুলেশবের শীলের বড় জামাই দেবেন্দ্ৰবাব । ভারী কড়া মেজাজের মানষি । বয়স পঞ্চাশ ছাড়াইয়াছে, দোহারা ধরণের চেহারা । বেশ ফিসা, মাথায় টাকা। এক কলমের খোঁচায় লোকের চাকরি খাইতে এমন পারদশী লোক খাব অল্পই দেখা যায়। দেবেন্দ্রবাব বললেন-কি হেনপেন ? নপেন ভূমিকাস্বরপ দাইখানা টাইপ-ছাপা কি কাগজ মঞ্জর করাইবার ছলে তাহার টেবিলের উপর রাখিল । সহি শেষ হইলে নীপেন একটু উশখশা করিয়া কপালের ঘাম মাছিয়া আরক্তমখে বলিল-আমি-এই--আজ বাড়ি যাব-একটু সকালে, চারটিতে গাড়ি কি না ? সাড়ে তিনটোতে না গেলে --তুমি এই সেদিন তো বাড়ি গেলে মঙ্গলবারে। রোজ রোজ সকালে ছেড়ে দিতে গেলে অফিস চলবে কেমন ক’রে ? এখনও তো একখানা চিঠি টাইপ কর নি দেখছি। -- এ আফিসে শনিবারে সকালে ছটির নিয়ম নাই ৷ সন্ধ্যা সাড়ে ছাঁটার পর্বে কোনদিন আফিসের ছটি নাই। কি শনিবার কি অন্যদিন। কোনও পালপার্বণে ছটি নাই, কেবল পাজার সময় এক সপ্তাহ, শ্যামাপজায় একদিন ও সরস্বতী পজায় একদিন । অবশ্য রবিবারগালি বাদ । ইহাদের বন্দোবস্তু এইরূপ-চাকরি করতে হয় কর, নতুবা যাও চলিয়া। এ ভয়ানক বেকার সমস্যার দিনে কর্মচারিগণ নবমীর পঠিার মত কপিতে কাঁপতে চাণক্য-শ্লোকের উপদেশ মত চাকুরিকে পরোভাগে বজায় ও ছটিছােটা, অপমান অসংবিধাকে পশ্চান্দিকে নিক্ষেপ করতঃ কায়ক্লেশে দিন অতিবাহিত করিয়া চলিয়াছেন । নপেন কি বলিতে যাইতেছিল-দেবেনবাব বাধা দিয়া বললেন-মল্লিক য়্যান্ড চৌধরিীদের মর্টগেজখানা। টাইপ করেছিলে ? নিপন কন্দি-কাদি মাখে বুলিল-আজ্ঞে, কই ওদের আফিস থেকে তা পাঠিয়ে দেয় নি। এখনও ?