প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৮৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


VurNurs AirA অপর বলি-ল-বিছ দরকার নেই। কাল আমরা তো চলে যাচ্ছি, আমার তো আসতে এখনও চার-পাঁচ দিন দেরি । ততদিন ওরা রাগী নিয়ে আমাদের ঘরে এসে থাকুন, আমি এলেও অসবিধে হবে না, আমি না হয় এই পাশেই বরদাবাবদের মেসে গিয়ে রাত্রে শোব। তুমি গিয়ে বাংলা বৌ-ঠাকরানকে । আমি বঝি, অপণা ! আমার মা আমার বাবাকে নিয়ে কাশীতে আমার ছেলেবেলায় ওই রকম বিপদে পড়েছিলেন-তোমাকে সে সব কথা কখনও বলি নি, অপর্ণা । বাবা মারা গেলেন, হাতে একটা সিকি-পয়সা নেই। আমাদের, সেখানে দ-একজন লোক কিছ. কিছ- সাহায্য করলে, হবিষ্যর খরচ জোটে না-মা-তে আমাতে রাহে শাধা অড়রের ডাল-ভিজে খেয়ে কাটিয়েছি । আমি তখন ছেলেমানষে, বছর দশেক মোটে বয়েস-গরীব হওয়ার কািট যে কি, তা আমার বােব তে বাকী নেই-কাল সকালেই ওরা এখানে আসন । অপণা যাইবার সময় পি টুর-মা খািব ক'দিল । এ বাড়িতে বিপদে-আপদে অপণা যথেস্ট করিয়াছে। রোগীর সেবা করিয়া ছেলেমেয়েকে দেখিতে সময় পাইত না, তাহদের চুল বাঁধা, টিপ পরানো, খাবার খাওয়ানো, সব নিজের ঘরে ডাকিয়া আনিয়া অপণা করিত । পিটু তো মােসীমা বলিতে অজ্ঞান, সকলের কান্না থামে তো পি-টুকে আর থামানো যায় না । বউয়ের বয়স অপণার চেয়ে অনেক বেশী । সে কাঁদিতে কাঁদিতে বলল, চিঠি দিও ভাই, দটো দ-ঠাই ভালয় ভােলায় হয়ে গেলে আমি মায়ের পজো দেবো । ঘরের চাবি পিটুর মায়ের কাছে রহিল। রেলে ও সস্টীমারে অনেক দিন পর চড়া। দনুজনেই হফি ছাড়িয়া বাঁচিল । দজনেই খাব খাশী । অপণাও পল্লীগ্রামের মেয়ে, শহর তাহার ভাল লাগে। না । অতটুকু ঘরে কোনদিন থাকে নাই, সকাল ও সন্ধাবেলা যখন সব বাসাড়ে মিলিয়া একসঙ্গে কয়লার উননে আগণ দিত, ধোঁয়ায় আপণার নিঃশবাস বন্ধ হইয়া আসিত, চোখ জবালা করিত, সে কি ভীষণ যন্ত্রণা । সে নদীর ধারের মন্ত আলো বাতাসে প্রকাণ্ড বাড়িতে মানষি হইয়াছে। এসব কম্পট জীবনে এই প্রথম-এক একদিন তাহার তো কান্না পাইও । কিন্তু এই দই বৎসরে সে নিজের সখে-সবিধার কথা বড় একটা ভাবে নাই । অপর উপর তাহার একটা অদভুত স্নেহ গড়িয়া উঠিয়াছে, ছেলের উপর মায়ের স্নেহের মত। অপর কৌতুকপ্রিয়তা, ছেলেমানষি, খেয়াল, সংসারানভিজ্ঞতা, হাসিখশি, এসব অপর্ণার মাতত্বকে অদ্ভুতভাবে জাগাইয়া তুলিয়াহে । তাহার উপর সবামীর দঃখময় জীবনের কথা, ছাত্রাবস্থায় দারিদ্র্য, অন্যহারের সঙ্গে সংগ্ৰাম— সে সব শনিয়াছে। সে-সব অপ বলে নাই, সে-সব বলিয়াছে প্রণব । বরং অপর নিজের অবস্থা অনেক বাড়াইয়া বলিয়াছিল--নিশিচন্দপরের নদীর ধারের পৈতিক বহৎ দোতলা বাড়িটার কথাটা আরও দ-একবার না তুলিয়াছিল এমন নহে- নিজে কলেজ হোসেন্টলে ছিল এ কথাও বলিয়াছে । বদ্ধিমতী অপর্ণার স্বামীকে চিনিতে বাকী নাই। কিন্তু সবামীর কথা সে যে সর্বৈব,