প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৯৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত Sନ୍ଧ মধ্যে সে উদভ্ৰান্তের মত অনেকক্ষণ ঘরিয়া বেড়াইল । লীলার বিবাহ হইয়াছে, খবই আনন্দের কথা, ভাল কথা । ভালই তো । অপরাজিত পঞ্চদশ পরিচ্ছেদ কলিকাতা আর ভাল লাগে না, কিছতেই না-এখানকাৰু, ধরাবাঁধা রুটিনমাফিক কাজ, বদ্ধতা, একঘেয়েমি-এ যেন অপর অসহ্য হইয়া উঠিল । তা ছাড়া একটা ব্যক্তিহীন ও ভিত্তিহীন অস্পষ্ট ধারণা তাহার মনের মধ্যে ফ্রমেই গড়িয়, উঠিতেছিল - কলকাতা ছাড়িলেই যেন সব দঃখ, দরি হইবে। --মনের শান্সি আবার ফিরিয়া পাওয়া যাইবে ! শীলেদের আফিসের কাজ ছাড়িয়া দিয়া অবশেষে সে চাঁপদানীর কাছে একটা গ্রাম্য স্কুলের মাসটারি লইয়া গেল। জায়গাটা না-শহর, না-পাড়াগাঁ গোছেরচারিধারে পাটের কল ও কুলিবন্তি, টিনের চালাওয়ালা দোকানঘর ও বাজার, কয়লার গড়ে ফেলা রাস্তার কালো ধলা ও ধোঁয়া, শহরের পারিপাট্যও নাই, পাড়াগাঁয়ের সহজ। শ্ৰীও নাই । বড়দিনের ছটিতে প্রণব ঢাকা হইতে কলিকাতায় অপাের সহিত সাক্ষাৎ করিতে আসিল । সে জানিত অপ, আজকাল কলিকাতায় থাকে না - সন্ধ্যার কিছু আগে সে গিয়া চাঁপদানী পৌছিল । খাজিয়া খাজিয়া অপাের বাসাও বাহির করিল। বাজারের একপাশে একটা ছোট্ট ঘর- - তার অধোকটা একটা ডাক্তারখানা, স্থানীয় একজন হাতুড়ে ডাম্ভাৱ সকালে বিকালে রোগী দেখেন। বাকী অধোকটাতে অপর একখানা তত্ত্বপোশ, একটা অধময়লা বিছানা, খানকতক বই, একটা বাঁশের আলনায় খানকতক কাপড় ঝুলানো । তত্ত্বপোশের নীচে অপাের সন্টীলের তোরঙ্গটা । অপ বলিল-এসো এসো, এখানকার ঠিকানা কি ক’রে জানলে ? -সে কথায় দরকার নেই । তারপর কলকাতা ছেড়ে এখানে কি মনে ক’রে ?-বাস ! এমন জায়গায় মানষে থাকে ? -খারাপ জায়গাটা কি দেখলি ? তা ছাড়া কলকাতায় যেন আর ভাল লাগে না-দিনকতক এমন হ’ল যে, বাইরে যেখানে হয় যাব, সেই সময় এখানকার মাস্টারিটা জাটে গেল, তাই এখানে এলাম। দড়িা, তোর চায়ের কথা বলে আসি পাশেই একটা বাঁকুড়ানিবাসী বামনের তেলে ভাজা পরোটার দোকান । রাত্রে তাঁহারই দোকানো অতি অপকািট খাদ্য কলঙক-ধরা পিতলের থালায় আনীত হইতে দেখিয়া প্রণব অবাক হইয়া গেল-অপাের রচি অস্তুতঃ মাজি ৩ ছিল চিরদিন, হয়ত তােহা সরল ছিল, অনাড়ম্বর ছিল, কিন্তু আমাজত ছিল না। সেই অপর এ কি অবনতি । এ-রকম একদিন নয়, রোজই রাত্রে নাকি এই