প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


Sy অপরাজিত চলিয়া গিয়াছেন, আজকাল তাহাকেই সমস্ত দেখিতে শনিতে হয় । সামান্য একটু জমি-জমা আছে, তাহার খাজনা আদায়, ধান কাটাইবার বন্দোবস্ত, দশকম, গহদেবতার পজা। গ্রিামে ব্ৰাহ্মণ নাই, তাহারাই একঘর মোটে। চাষী কৈবর্তী ও অন্যান্য জাতির বাস, তাহা ছাড়া এ-পাড়ার কুন্ডুরা ও ও-পাড়ার সরকারেরা । কাজে কমে ইহাদের সকলেরই বাড়ি অপকে ষষ্ঠীপজা, মাকালপজেলা করিয়া বেড়াইতে হয় । সবাই মানে, জিনিসপত্র দেয় । সেদিন কি একটা তুির্থ উপলক্ষে সরকার-বাড়ি লক্ষীপজা ছিল । পজা। भाक्षा भान्क द्वाह পত্র একটা পাটুলি বধিয়া লইয়া সে পথ বাহিয়া বাড়ির দিকে আসিতেছিল ; খাব জ্যোৎস্না, সরকার বাড়ির সামনে নারিকেল গাছে কাঠঠোকরা শব্দ করিতেছে। শীত বেশ পড়িয়াছে; বাতাস খািব ঠাণ্ডা, পথে ক্ষেত্রে কােপালির বেড়ায় আমড়া গাছে বাউল ধরিয়াছে। কাপালিদের বাড়ির পিছনে বেগনক্ষেতের উচুনিচু জমিতে এক জায়গায় জ্যোৎস্না পড়িয়া চকচক ক্ষরিতেছে, -পাশের খাদটাতেই অন্ধকার। আপ মনে মনে কলপনা করিতে করিতে যাইতেছিল যে, উচু জায়গাটা একটা ভালক, নিচুটা জলের চৌধাচ্চা, তার পরের উচুটা ননের ঢ়িবি। মনে মনে ভাবিবুল-কমলালেব দিয়েচে, বাড়ি গিয়ে কমলালেব, খাবো । মনের সমুখে শহরে-শেখা একটা গানের একটা চরণ সে গান গান করিয়া ধরিলসাগর কুলে বসিয়া বিরলে হেরিব লহরী মালাঅনেকদিনের সর্বপ্ন যেন আবার ফিরিয়া আসে। নিশ্চিন্দিপরে থাকিতে ইছামতীর তীরের ফলে, মাঠে কত ধ্যােসর অপরাঙ্গুের, কত জ্যোৎস্না-রাতের সে সব সর্বপ্ন ! এই ছোট্ট চাষাগায়ের চিরকালই এ রকম যন্ঠ পিজা মােকালাপজা করিয়া কাটাইতে হইবে ? সাপ্লাদিনের রোদো-পোড়া মাটি নৈশ শিশিরে স্নিগ্ধ হইয়া আসিয়াছে, এখন শীতের রাতের ঠাণ্ডা হাওয়ায় তাহারই সগন্ধ । অপর মনে হইল রেলগাড়ির চাকায় চাকায় যেমন শব্দ হয়-ছোট ঠাকুরপো-বিটঠাকুর-পো-ছোট ঠাকুর-পো-ধ্বটঠাকুর-পো- দই-এক দিনের মধ্যে সে মায়ের কাছে কথাটা আবার তুলিল। এবার শািন্ধ, তোলা নয়, নিতান্ত নাছোড়বান্দা হইয়া পড়িল । আড়বোলালের স্কুল দাই ক্লোশ দরে, তাই কি ? সে খাব হাঁটিতে পরিবে এটুকু । সে বঝি চিরকাল এই রকম চাষাগায়ে বসিয়া বসিয়া ঠাকুরপজা করিবে ? বাহিরে যাইতে পরিবে না বঝি ! তব আরও মাস দাই কাটিল । স্কুলের পড়াশোনা সবজিয়া বোঝে না, সে যাহা বোঝে তাহা পাইয়াছে । তবে আবার ইসকুলে পড়িয়া কি লাভ ? বেশ তো সংসার গছাইয়াঁউঠিতেছে । আর বছর কয়েক পরে ছেলের বিবাহ--তারপরই একঘর মানষের মত মানষে । সবজিয়ার সর্বপ্ন। সার্থক হইয়াছে । কিন্তু অপাের তাহা হয় নাই। তাহাকে ধরিয়া রাখা গেল না-শ্রাবণের প্রথমে সে আড়বোয়ালের মাইনর স্কুলে ভতি হইয়া যাতায়াত শৱ করিল।