প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


&Ye tours একদিন সে স্কুল হইতে ছটির পরে বাহিরে আসিতেছে, স্কুলের বেহাৱা তাহার হাতে একখানা খামের চিঠি দিল-খলিয়া পড়িল, স্কুলের সেক্রেটারি লিখিতেছেন, তাহাকে আর বর্তমানে আবশ্যক নাই-এক মাসের মধ্যে সে যেন অন্যত্র চাকুরী দেখিয়া লয় । w অপ, বিস্মিত হইল - কি ব্যাপার। হঠাৎ এ নোটিশের মানে কি ? সে তখনই হেডমাসটারের কাছে গিয়া চিঠিখন দেখাইল । তিনি নানাকারণে 'অপর উপর সমতুল্ট ছিলেন না প্রথম, সেবাসমিতির দলগঠন অপাই করিয়াছিল, নেতৃত্বও কারিত সে । এ ছেলেদের সে অত্যন্ত প্রিয়পাল, তাহার কথায় ছেলেরা ওঠে বসে । জিনিসটা হেডমাস্টারের চক্ষণশীল । অনেকদিন হইতেই তিনি সহযোগ খাজিতেছিলেন-ছিদ্রটা এত দিন পান নাই- পাইলে কি আর একটা অনভিজ্ঞ ছোকরাকে জব্দ করতে এতদিন লাগিত ? হেডমাস্টার বিছ, জানেন না-সেক্রেটারীর ইচ্ছা, তাঁহার হাত নাই । সেক্রেটারী জানাইলেন, কথাটা এই যে, অপব’ বাবার নামে নানা কথা রাটিয়াছে, দীঘড়ী বাড়ির মেয়েটির এই সব ঘটনা লইয়া। অনেকদিন হইতেই এ লইয়া তাঁহার কানে কোন কোন ব্যথা গেলেও তিনি শোনেন নাই। কিন্তু সম্প্রতি ছেলেদের অভিভাবধাদের মধ্যে অনেকে আপত্তি করিতেছেন যে, ও-রুপ চরিত্রের শিক্ষককে কেন রাখা হয় । অপাের প্রতিবাদ সেক্রেটারী কানে তুলিলেন না। --দেখান, ও-সব কথা আলাদা । আমাদের স্কুলের ও ছাত্রদের দিক থেকে এ-ব্যাপারটা অন্যভাবে আমরা দেখব। কিনা ! একবার যাঁর নামে কুৎসা রটেছে, তাঁকে আর আমরা শিক্ষক হিসাবে রাখতে পারি নে- তা সে সত্যিই হোক, বা মিথ্যেই হোক । 1. অপর মািখ লাল হইয়া গেল। এই বিরাট অবিচারে। সে উত্তেজিত সরে বলিল --বেশ তো মশায়, এ বেশ জাস্টিস হ’ল তো ! সত্যি মিথ্যে না জেনে আপনারা একজনকে এই বাজারে অনায়াসে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দিচ্ছেন- বেশ তো ? বাহিরে আসিয়া রাগে ও ক্ষোভে অপর চোখে জল আসিয়া গেল। মনে ভাবিল এসব হেডমাস্টারের কারসাজি-আমি যাব তাঁর বাড়ি খোেশামোদ করতে ? যায় যাক চাকরি । কিন্তু এদের অদ্ভুত বিচার বটে-ডিফেন্ড করার একটা সংযোগ তো খনী আসামীকেও দেওয়া হয়ে থাকে, তা-ও এরা আমায় দিলে না ! কয়দিন সে বসিয়া ভাবিতে লাগিল, এখানকার চাকুরির মেয়াদ তো আর এই মাসটা-তারপর কি করা যাইবে ? স্কুলে এক নতুন মাস্টার কিছুদিন পর্বে কোন এক মাসিক পত্রিকায় গলপ লিখিয়া দশটা টাকা পাইয়াছিলেন । গল্পটা সেই ভদ্রলোবের কাছে অপর অনেকবার শনিয়াছে ! আচ্ছা, সেও এখানে বসিয়া বসিয়া খাতায় একটা উপন্যাস লিখিতে শার করিয়াছিল- মনে মনে ভাবিলে,- দশ-বারো চ্যাপিটার তো লেখা আছে, উপন্যাসখানা যদি লিখে শেষ করতে পারি. তার বদলে বেউ টাকা দেবে না ? কেমন হচ্ছে কে জানে ; একবার রামবাবকে দেখাব ৷