প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অপরাজিত RS ভগ্নাংশ ধরেছে ? তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয়ের মািখ আত্মপ্রসাদে উক্তজবল দেখাইল ; বলিলেন, আজ্ঞে হ্যা, দ” ক্লাসে আমি অঙ্ক কষাই কি না । ও ক্লাসেই অনেকটা এগিয়ে দিই-সরল ভগ্নাংশটা শেষ করে ফেলি ইন্সপেক্টর এক এক করিয়া বাঙলা রিডিং পড়িতে বলিলেন । পড়িতে উঠিয়াই অপর গলা কাঁপিতে লাগিল । শেষের দিকে তাহার পড়া বেশ ভাল হইতেছে বলিয়া তাহার নিজেরই কানে ঠেকিল । পরিস্কার সতেজ বশির মত গলা ; রিনারিনে মিনিট । --বেশ, বেশ রিডিং । কি নাম তোমার ? তিনি আরও কয়েকটি প্রশ্ন করিলেন। তারপর সবগলি ক্লাস একে একে ঘরিয়া আসিয়া জলের ঘরে ডাব সন্দেশ খাইলেন। তৃতীয় পণ্ডিত মহাশয় আপকে বলিলেন, তুই হাতে করে এই ছটির দরখাস্তখানা নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাক, তোকে খাব পছন্দ করেছেন, যেমন বাইরে আসবেন, অমনি দরখাপ্তখানা হাতে দিবি --দদিন ছটি চাইবি-তোর কথায় হয়ে যাবে-এগিয়ে যা । ইন্সপেক্টর চলিয়া গেলেন। তাঁহার গাড়ি কিছদৱ যাইতে না ধাইতে ছেলেরা সমস্যাবরে কলরব করিতে করিতে সকুল হইতে বাহির হইয়া পড়িল । হেডমাস্টার ফণীবাব: অপকে বলিলেন, ইন্সপেক্টরবাব খর্ব সন্তুষ্ট হয়ে গিয়েছেন তোমার ওপর। থোডের একজামিন দেওয়াবো তোমাকে দিয়ে-তৈরী হও, বিকালে ? বোড়ের পরীক্ষা দিতে মনোনীত হওয়ার জন্য যত না হউক, ইন্সপেক্টরের পরিদর্শনের জন্য দা দিন স্কুল বন্ধ থাকিবায় আনন্দে উৎফুল্ল হইয়া সে বাড়ির দিকে রওনা হইল। অন্য দিনের চেয়ে দেরি হইয়া গিয়াছে। অধিক পথ চলিয়া আসিয়া পথের ধারে একটা সাঁকোর উপর বসিয়া মাসের দেওয়া খাবারের পাটুলি খালিয়া রুটি, নারিকেলকোরা ও গড় বাহির করিল। এইখানটাতে বসিয়া রোজ সে স্কুল হইতে ফিরিবার পথে খাবার খায়। রাস্তার ধাঁকের মাথে সাঁকোটা, হঠাৎ কোনো দিক হইতে দেখা যায় না, একটা বড় তুতি-গাছের ডালপালা নত হইয়া ছায়া ও আশ্রয়। দই-ই যোগাইতেছে। সাঁকোর নীচে আমরাল শাকের বনের ধারে একটু একটু জল বাধিয়াছে, মাখ বাড়ালেই জলে ছায়া পড়ে । অপর কেমন একটা অস্পষ্ট ভিত্তিহীন ধারণা আছে যে, জলটা মাছে ভীতি, তাই সে একটু একটু রিটির টুকরা উপর হইতে ফেলিয়া দিয়া মািখ বাড়াইন্না দেখে মাছে ঠোকরাইতেছে কি না । সাঁকোর নীচের জলে হাত মািখ ধাইতে নামিতে গিয়া হঠাৎ তাহার চোেখ পড়িল একজন ঝাঁকড়া-চল কালো-মন্ত লোক রাস্তার ধারের মাঠে নামিয়া লতা-কাঠি কুড়াইতেছে। অপ, কৌতুহলী হইয়া চাহিয়া রহিল। লোটা খাব লক্ষবা নয়, বোটে ধরনের, শক্ত হাত পা, পিঠে একগাছা বড় ধনক, একটা জড় বেচিকা, মাথার চলে লম্বা লক্ষবা, গলায় রাঙা সবজি হিংলাঞ্জের মালা । সে অত্যন্ত কৌতুহলী হইয়া ডাকিয়া বলিল, ওখানে কি খােজচো ? পরে লোকটির সঙ্গে তাহার আলাপ হইল। সে জাতিতে সাঁওতাল, অনেক দরে কোথার দমকা জেলা আছে, সেখানে বাড়ি । অনেক দিন বধমানে ছিল, বাঁকা বাঁকা বাংলা বলে, পায়ে