প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


:8 अन्या সন্ত্রীকে মানিকতলায় শবশঙ্কুরবাড়িতে নামাইয়া দিয়া সরেশবের অপাের সহিত কপোয়েশন সন্ত্রীটের এক রেন্ডোরায় গিয়া উঠিল। অপর কথা সব শনিয়া বলিল-এই পাঁচ বৃষ্টির ওখানে ছিলে ? মন-কেমন করত না দেশের জন্যে ? - Oh, at times I felt so tarribly homesick-homesick for Ben২at-শেষ দ-বছর দেশ দেখবার জন্য পাগল হয়েছিলাম- । ফুটপাত বাহিয়া কয়েকটি ফিরিঙ্গি মেয়ে হাসি কলরব করিতে করিতে পথ চলিতেছে, অপ, সাগ্রহে সেদিকে চাহিয়া রহিল। মানষের গলার সদর মানষের কাছে এত কাম্যও হয় ; রাস্তাভিরা লোকজন, মোটর গাড়ি, পাশের একটি একতলা বাড়িতে সাজানো গোছানো ছোট ঘরে কয়েকটি সাহেবের ছেলেমেয়ে ছাটোহুটি করিয়া খেলা করিতেছে- সবই অদ্ভুত, সবই সন্দর বলিয়া মনে হয়। আলোকোঙ্গজেবল রেস্তোরাঁটায় অনবরত লোকজন ঢুকিতেছে, বাহির হইতেছে, মোটর হনের আওয়াজ, মোটর বাইকের শব্দ, একখানা রিকত্সা গাড়ি তুং ঠুং করিতে করিতে চলিয়া গেল-আপ চাহিয়া চাহিয়া দেখিতেছিল-যেন এসব সে কখনও দেখে নাই । সরেশ বয়কে বলিল-দেখােন জানলার ধারে এসে-ঐ যে নক্ষত্রটা দেখছেন, -আজি ল’বছর ধরে ওটাকে উঠতে দেখেছি ঘন বন-জঙ্গল-ভরা পাহাড়ের মাথার ওপরে। আজ ওটাকে হোয়াইটওয়ে লেডলর বাড়ির মাথার ওপরে উঠতে দেখে কেমন নতুন নতুন ঠেকছে। এই তো পৌনে দশটা রাত ? এ সময় গত পাঁচ বৎসর শািন্ধ আমি জঙ্গল পাহাড়-আর ভেড়িয়ার ডাক, কখনো কখনো বাঘের ডাকও- । আর কি to nine is:tes ! শহরে বসে সে সব বোঝা যাবে না । সারেশবেরও নিজের কথা বলিল । চট্টগ্রাম অঞ্চলে কোন কলেজের অধ্যাপক, বিবাহ করিয়াছে কলিকাতায় । সম্প্রতি শালীর বিবাহ উপলক্ষে আসিয়াছে। বলিল-দ্যাখ ভাই, তোমার ও জীবন একবার আরুবাদ করতে ইচ্ছে হয়-কিন্তু ... তখন কি জানতুম বিয়ে এমন জিনিস হয়ে দাঁড়াবে ? যদি কিছ করতে চাও জীবনে, বিয়ে ক’রো না কখনও, বলে দিলাম। বিয়ে করো নি ’ত ? আপ হাসিয়া বলিল-ওঃ, আমি ভাবছি আপনার এ লেকচার যদি বৌদি শনতেন। V 40 w --না না, শোনো। সত্যি বলছি, সে উনিশশো পনেরো সালের সরোবর আর নই। আমি । সংসারের হাড়িকাঠে যৌবন গিয়েছে, শক্তি গিয়েছে, সর্বপ্ন গিয়েছে, জীবনটা ব্যথা খাইয়েছি। —ক’ত কি করবার ইচ্ছে ছিল— ওঃ, যেদিন এম. এ. ডিপ্লোমাটা নিয়ে কনভোকেশন হল থেকে বোরলাম, মনে আছে মাঘের শেষ, গোলদীঘির দেবদার গাছে নতুন পাতা গজিয়েছে, সবে দাঁখিনা হওয়া শহর হয়েছে, গাউন সমেত এক দোকানে গিয়ে ফটো ওঠালাম, কি খােদশী ! মনে হ’ল, সারা পথিবীটা আমার পায়ের তলায়। ফটোখানা আজও আছে-চেয়ে দেখে ভাবি, কি ছিলাম, কি হয়ে দাঁড়িয়েছি! পাড়াগাঁয়ের কলেজে তিনশো চব্বিশ দিন একই কথা আওড়াই, দলাদলি করি, প্রিন্সিপ্যালের মন যোগাই, সন্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করি, স্কেলদের ডাক্তার দেখাই, এর মধ্যে মেয়ের বিয়ের ভাবনাও ভাবি না না, তুমি