প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩২৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


ORY usar &ভাল আছে এখনও, অথচ মানষেরাই গেল চলিয়া। সে নি। রেও আর নাই। এখন যদি সে এখানে আবার বাসও করে সে অপােব আনন্দ আর পাইবে না-এখন সে তুলনা করিতে শিখিয়াছে, সমালোচনা করিতে শিখিয়াছে, ছেলেবেলায় যারা ছিল সাথী-এখন তাদের সঙ্গে আর অপর কোনদিকেই মিশ খায় না-তাদের সঙ্গে কথা কহিয়া আর সে সখি নাই, তারা লেখাপড়া শিখে নাই, এই পাঁচিশ বৎসরে গ্রাম ছাড়িয়া অনেকেই কোথাও যায় নাই-সবারই পৈতৃক কিছ: জমি-জমা আছে, তাহাই হইয়াছে তাদের কাল । তাদের মন, জ্ঞদের দটি পাঁচিশ বৎসর পবেরি সেই বাল্যকালের কোঠায় আজও নিশ্চল ।- "কোন দিক হইতেই অপর আর কোন যোগ নাই তাহদের সহিত । বাল্যে কিন্তু এসব দণ্টি খোলে নাই-সব জিনিসের উপর একটা অপরিসীম। নিভািরতার ভাব ছিল---সব অবস্থাকেই মানিয়া লইত বিনা বিচারে । সত্যকার জীবন তখনই যাপন করিয়াছিল নিশ্চিন্দিপারে। তাহা ছাড়া বাল্যের সপরিচিত ও অতি প্রিয় সাথীদের অনেকে বাঁচিয়া নাই । বোলািটম দাদা নাই, জ্যাঠাইমা-রাণাদির মা নাই, আশালতাদি বিবাহের পর মরিয়া গিয়াছে, পটু এদেশ হইতে উঠিয়া গিয়া অন্য কোথায় বাস করিতেছে, নেড়া, রাজ্য রায়, প্রসন্ন গরমশায় কেহই আর নাই-সবামী মারা যাওয়ার পরে গোকুলের বউ খড়িমাকে তাহার ভাই আসিয়া লইয়া গিয়াছে।-দশ বারো বৎসর তিনি এখানে DLL DS DuB DBD DDBD BB BDD S তব মেয়েদের ভাল লাগে । রাণাদি, ও-বাড়ির খড়িমা, রাজলক্ষী, লীলাদি, এরা স্নেহে, প্লেমে, দঃখে শোকে যেন অনেক বাড়িয়ছে, এতকাল পরে অপকে পাইয়া ইহারা সকলেই খাশী, কথায় কাজে এদের ব্যবহার মধ্যর ও অকপট । পরাতন দিনের কথা এদের সহিত কহিয়া সখি আছে-বিহাকালের খাঁটিনাটি কথাও মনে রহিয়াছে।--হয়তো বা জীবনের পরিধি ইহাদের সঙ্কীণ বলিয়াই, ক্ষদ্র বলিয়াই এতটুকু তুচ্ছ জিনিসও অাঁকড়াইয়া রাখিয়াছে । আজ সে একথা বঝিয়াছে, জীবনে অনবরত বিরািন্ধ অবস্থার সঙ্গে লড়াই করিয়া চলিতে হইয়াছিল বলিয়াই আজ সে যাহা পাইয়াছে -এখানে পৈতৃক জমিজমার মালিক হইয়া নিভাবনায় বসিয়া থাকিলে তাহা পাইত না । আজ যদি সে বিদেশে যায়, সমদ্ৰপারে যায়-যে চোখ লইয়া সে যাইবে, নিশিচন্দিপারে। গত পাঁচিশ বৎসর নিক্ৰিয় জীবন যাপন করিলে সে চোখ খলিত না। একদিন নিশিচন্দিপারকে যেমন সে সখ-দঃখ দ্বারা অজািন করিয়াছিল-আজ তেমনি সখ-দঃখ দিয়া বাহিরকে অজািন করিয়াছে। নদীতে গা ধাইতে গিয়া নিস্তবধ সন্ধ্যায়। এই সব কথাই সে ভাবিতেছিল। সারাদিনটা আজ গােমট গরম, প্রতিপদ তিথি-কাল গিয়াছে পণিমা । আজ এখনি জ্যোৎস্নায় উঠবে। এই নদীতে ছেলেবেলায় যে-সব বধ জল লইতে আসিত, তারা এখন প্রৌঢ়া, কত নাইণ্ড-মরিয়া হাজিয়া গিয়াছে, যে-সব কোকিল। সেই ছেলেবেলাকার রামনবমী দিনের পলক মাহত গালি ভরাইয়া দাপরে কুকু ডাক দিত, কাঁচপাতা-ওঠা