প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


R অপরাজিত, কোথাও যেন সে পাইয়াছে ইহার আগে। কিন্তু তাহার পালা আসিল ও চলিয়া গেল, তাহার মনে পড়িল না। ওদিকের বেঢ়িটো ঘরিয়া যখন প্রশ্নটা তাহদের সন্মাখের বেঞ্চের ছেলেদের কাছে আসিয়া পৌঁছিয়াছে, তখন তাহার হঠাৎ মনে পড়িল, নিশিচন্দিপরে থাকিতে সেই পরার্তন ‘বঙ্গবাসী’গালার মধ্যে কোথায় সে এ-কথাটা পড়িয়ছে- বোধ হয়, সেই “বিলাত যাত্রীর চিঠি’র মধ্যে হইবে । তাহার মনে পড়িয়াছে ! পরাম্মাণেই সে উঠিয়া দাঁড়াইয়া বলিল-ফরাসী দেশের লেখক, খব বড় লেখক । প্যারিসে তাঁর পাথরের মতি আছে, পথের ধারে । হেডমাস্টার বোধ হয়। এ ক্লাসের ছেলের নিকট এ ভাবের উত্তর আশা করেন। নাই, তাহার দিকে চশমা-অটিা অঞ্চলক্ষবলে চোখে পণে দলিষ্টতে চাহিতেই অপ অভিভূত ও সঙ্কুচিত অবস্থায় চোখ নামাইয়া লইল । হেডমাস্টার বলিলেন, আচ্ছা, বেশ । পথের ধারে নয়, বাগানের মধ্যে মতিটা আছে — বসো, বসে সব । সত্যেনবাব, তাহার উপর খবা সন্তুষ্ট হইলেন । ছটির পর তাহাকে সঙ্গে করিয়ে নিজের বাসায় লইয়া গেলেন । ছোটখাটো বাড়ি, পরিস্কার পরিচ্ছন্ন, একাই থাকেন । স্টেীভ জবালিয়া চা ও খাবার করিয়া তাহাকে দিলেন, নিজেও খাইলেন । বললেন, আর একটু ভাল ক'রে গ্রামারটা পড়বে - আমি তোমাকে দাগ দিয়ে দেখিয়ে দেবো ! অপাের লন্ডজাটা অনেকক্ষণ কাটিয়া গিয়াছিল, সে আলমারিটার দিকে আঙলি দিয়া দেখাইয়া বলিল-ওতে আপনার অনেক বই আছে ? সত্যেনবাব আলমারি খালিয়া দেখাইলেন। বেশীর ভাগই আইনের বই, শীঘ্রই আইন পরীক্ষা দিবেন। একখানা বই তাহার হাতে দিয়া বলিলেন - এখানা তুমি পড়ো-বাংলা বই, ইতিহাসের গলপ । অপর আরও দ'-একখানা বই নামাইয়া দেখিবার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত পারিল না । মাস দাই-তিনের মধ্যে বোডিং-এর সকলের সঙ্গে তাহার খািব জানাশোনা হইয়া গেল । হয়ত তাহা ঘটিত না, কারণ তাহার মত লাজক ও মািখচোরা প্রকৃতির ছেলের পক্ষে সকলের সহিত মিশিয়া, অলপ করিয়া লওয়াটা একরােপ সম্ভবের বাহিরের ব্যাপার, কিন্তু প্রায় সূকুঞ্জেই, তাহার সহিত যাচিয়া আসিয়া আলাপ করিল। তাহাকে ক্ষে খ শী কবি :ণা", ইহা লইয়া দিনকতক ধেন বোভিং-এর ছেলেদের মধ্যে একটা পাল্লা দেও৫ চলিল খাবার-ঘরে খাইতে বসিবার সময় সকলেরই ইচ্ছা-আপ, ও হার কা, ১ -সে, এ তাড়াতাড়ি বড় পড়িখানা পাতিয়া দিতেছে, ও ঘি খাইবার নিমন্ত্রীর্ণয়ঃঈছে। প্রথম প্রথম সে ইহাতে অস্বস্তিবােধ করিত, খাইতে বসিয়া তাহািল করিয়া খাওয়া ঘটিত না, কোনরকমে খাওয়া সারিয়া উঠিয়া আসিত । কিন্তু যেদিন ফাস্ট ক্লাসের রমাপতি পর্যন্ত তাহকে নিজের পাতের লেব, তুলিয়া দিয়া গেল, সেদিন সে মনে মনে খাশী তো হইলই, একটু গবও অন্যভব করিল। রমাপতি বয়সে তাহার অপেক্ষা চার-পাঁচ বৎসরের বড়,