প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


u°Rfurs Vya বারো টাকা বাঁচে-কলিকাতা শহরে বারো টাকায় যে কিছতেই চলিতে পারে না, অপর সে জ্ঞান এতদিনেও হয় নাই। সতরাং সে ভাবিল বন্ধুরা টাকাতেই চলিবে, খব চলিবে । বারো টাকা কি কম টাকা ! কিন্তু বারো টাকা আয়ও বেশী দিন রহিল না,একদিন পড়াইতে গিয়া শানিল, ছেলের শরীর খারাপ বলিয়া ডাক্তার হাওয়া বদলাইতে বলিয়াছে, পড়াশনা এখন বন্ধ থাকিবে । এক মাসের মাহিনা তাহারা বাড়তি দিয়া জবাব দিল । । টাকা কয়টি পকেটে করিয়া সেখান হইতে বাহির হইয়া, অপ, আকাশ-পাতাল ভাবিতে ভাবিতে ফুটপাথ বাহিয়া চলিল । সরোবরের মেসে সে জিনিসপত্র রাখিয়া দিয়াছে, সেইখানেই গোস্ট-চ্যাজ দিয়া খায়, রাত্রে মেসের বারান্দাতে শইয়া থাকে । টাকা যাহা আছে, মেসের দেনা মিটাইতে যাইবে । সামান্য কিছ হাতে “থাকিতে পারে বটে, কিন্তু তাহার পর ? সরোবরের মেসে আসিয়া নিজের নামের একখানি পত্র ডাকবাক্সে দেখিল । হাতের লেখাটা সে চেনে না-খলিয়া দেখিল চিঠিখানা মায়ের, কিন্তু অপরের হাতে লেখা । হাতে ব্যথা হইয়া মা বড় কািট পাইতেছেন, অপ, কি তিনটি টাকা পাঠাইয়া দিতে পারে ? মা কখনো কিছ: চান না, মািখ বজিয়া সকল দঃখ সহ্য করেন, সে-ই বরং দেওয়ান।পরে থাকিতে নানা ছল ছাতায় মাঝে মাঝে কত টাকা লায়ের কােছ হইতে লইয়াছে । হাতে না থাকিলেও তেলিবাড়ি হইতে চাহিয়াচিন্তিয়া মা যোগাড় করিয়া দিতেন। খািব কম্পট না হইলে কখনো মা তাহাকে টাকার জন্য লেখেন নাই । পকেট হইতে টাকা বাহির করিয়া গণিয়া দেখিল সাতাশটি টাকা আছে । মেসের দেনা সাড়ে পনেরো টাকা বাদে সাড়ে এগারো টাকা থাকে । মাকে কত DD BHB BBB0SS SBB BB DDDYuBDu uDD GBDD L0OLYDSDD YY টাকা পাঠিয়ে দিই, মনিঅৰ্ডার পিওন যখন টাকা নিয়ে যাবে, মা ভাবকেন, ববিন্ধ তিন টাকা কিংবা হয়তো দটীকার মনিঅৰ্ডার-জিজ্ঞেস করবেন, কত টাকা ? পিওন যেই বলবে দশ টাকা, মা অবাক হয়ে যাকেন। মাকে তাক লাগিয়ে দেবো।-- ভারী মজা হবে, বাড়িতে গেলে মা শােধ সেই গল্পই করবেন দিনরাত অপ্রত্যাশিত টাকা প্ৰাপ্তিতে মায়ের আনন্দোক্তিজবল মাখখানা কল্পনা করিয়া অপ, ভারী খশী হইল। বৌবাজার পোস্টাফিস হইতে টাকাটা পাঠাইয়া দিয়া সে ভাবিল-বিশ হ’ল ! আহা, মাকে কেউ কখনো দশ টাকার মনিঅৰ্ডার এক সঙ্গে পাঠায় নি-টাকা পেয়ে খশী হবেন । আমার তো এখন রইল দেড় টাকা, তারপর একটা কিছু ঠিক হয়ে যাবেই । কলেজের একটি ছেলের সঙ্গে তাহার খাব বন্ধত্ব হইয়াছে। সেও গরীব ছাত্র, ঢাকা জেলায় বাড়ি, নাম প্রণব মােখাজি । খাব লক্ষবা, গৌরবণ, দোহারা চেহারা, বন্ধিপ্রোঙ্গাজল দলিট । কলেজ-লাইব্রেরীতে একসঙ্গে বসিয়া বই পড়িতে পড়িতে ‘দ’জনের আলাপ । এমন সব বই দ’জনে লইয়া যায়, যাহা সাধারণ ছাত্রেরা পড়ে না, নামও জানে না । ফাস্ট-ইয়ারের ছেলেকে মমসেন লাইতে দেখিয়া প্রণব তাহার দিকে প্রথম আকৃষ্ণটি হয় । আলাপ ক্ৰমে বন্ধত্বে পরিণত হইয়াছে ।