প্রধান মেনু খুলুন

পাতা:অপরাজিত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


खान्छाअङ ԳS অপসাহস সঞ্চয় করিয়া বলিল-এখানে কি পাওর সন্টুডেন্টদের খেতে দেওয়া হয় ? তাই আমি --আপনি দরখাস্ত করেছিলেন ? ২ কিসের দরখাস্ত অপ জানে না । --জন মাসে দরখাস্ত করতে হয়, আমাদের নাম্বার লিমিটেড কিনা, এখন আর খালি নেই। আবার আসছে বছর।--তাছাড়া, আমরা ভাবছি ওটা উঠিয়ে দেবো, এস্টেট রিসিভারের হাতে যাচ্ছে, ও-সব আর সবিধে হবে না। ঔষ্ট ফিরিবার সময় গেটের বাহিরে আসিয়া অপর মনে বড় কািন্ট হইল। কখনও সে কাহারও নিকট কিছু চায় নাই, চাহিয়া বিমখ হইবার দঃখ, কখনও ভোগ করে নাই, চোখে তাহার প্রায় জল আসিল । পকেটে মাত্র আনা দই পয়সা অবশিস্ট আছে-এই বিশাল কলিকাতা শহরে তাহাই শেষ অবলম্ববন । কাহাকেই বা সে এখানে চেনে, কাহার কাছে যাইবে ? অখিলবাবার মেসে দই মাস সে প্রথম খাইয়াছে, সেখানে যাইতে লক্ষজা করে । সমরেশ বরের নিজেরই চলে না ; তাহার উপর সে কখনও জলাম করিতে পরিবে না । আরও কয়েকদিন কাটিয়া গল । কোনদিন সরেশ বরের মেসে এক বেলা খাইয়া, কোনদিন বা জানকীর কাছে কাটাইয়া চলিতেছিল । একদিন সারাদিন না খাওয়ার পর সে নিরাপায় হইয়া অখিলবাবার মেন্সে সন্ধ্যার পর গেল। অখিলবাব অনেকদিন পর তাহাকে পাইয়া খশী হইলেন । রাত্রে খাওয়া-দাওয়ার পর অনেকক্ষণ গল্পগজব করিলেন । বলি বলি করিয়াও অপর নিজের দীদশার কথা অখিলবাবকে বলিতে পারিল না। তাহা হইলে হয়তো তিনি তাহাকে ছাড়িবেন। না, সেখানে থাকিতে বাধ্য করিবেন। সে জলম করা হয় অনৰ্থক । কিন্তু এদিকে আর চলে না ! এক জায়গায় বই, এক জায়গায় বিছানা । কোথায় কখন রাত কাটাইবে কিছু ঠিক নাই-ইহাতে পড়ােশানা হয় না । পরীক্ষাও নিকটবতী । না খাইয়াই বা কয় দিন চলে ! অখিলবাবার মেস হইতে ফিরিবার পথে একটা খাব বড় বাড়ি । ফটকের কাছে মোটর গাড়ি দাঁড়াইয়া আছে । এই বাড়ির লোকে যদি ইচ্ছা করে তবে এখনি তাহার কলিকাতায় থাকার সকল ব্যবস্থা করিয়া দিতে পারে । সাহস করিয়া যদি সে বলিতে পারে, তবে হয়তো এখনি হয় । একবার সে বলিয়া দেখিবো ? কোথাও কিছু সংবিধা না হইলে তাহাকে বাধ্য হইয়া পড়াশনা ছাড়িয়া দিয়া দেশে ফিরিতে হইবে । এই লাইব্রেরী, এত বই, বন্ধ বান্ধব, কলেজ-সব ফেলিয়া হয়তো মনসাপোতায় গিয়া আবার পরাতন জীবনের পনৰ্বাবত্তি করিতে হইবে । পড়ােশানা তাহার কাছে একটা রোমান্স, একটা অজানা বিচিত্র জগৎ দিনে দিনে চোখের সামনে খালিয়া যাওয়া, ইহাকে সে চায়, ইহাই এতদিন চাহিয়া আসিয়াছে। কলেজ হইতে বাহির হইয়া চাকরি, অথোেপার্জন-এসব কথা সে কোনদিন ভাবে নাই, তাহার মাথার মধ্যে কোনদিন এসব সাংসারিক কথা ঢ়োকে নাই-সে চায় এই অজানার রোমানস-এই বিচিত্ৰ ভাবধারার সহিত আরও ঘনিষ্পাঠ সংসপেশ ।