পাতা:অমৃত গ্রন্থাবলী প্রথম ভাগ.pdf/২৮৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


বিলাপ ! বিদ্যাসাগর মহাশয় করুণার বশে দৃঢ়বিশ্বাসে ঋষিবাক্যে নির্ভর না করিয়া, পাশ্চাত্য প্রথার দৃষ্টাস্তে আধুলিক উৎকট সমাজংস্কারকদের প্রবৃত্তির বশীভূত হইয়া বিধবার বিবাহের উদ্যোগী হইয়াছিলেন । আচারে ব্যবহারে, নিষ্ঠায় ক্রিয়ায় আজকাল আজীবন কয়জন তাহার ন্যায় হিন্দুধৰ্ম্ম প্রতিপালন করিতেছে ? আর পরিচ্ছদ-এই যে জাতীসুতা জাতীয়তা হিন্দুত্ব हिमूङ्-झुङ्गे श्रृंोङ ইংরাজী পড়িলেই সকলই কোট-পেষ্টলেনের কবলগত হয় ; কিন্তু ইংরাজী ভাষায় প্রগাঢ় অধিকার সত্ত্বেও রাজপ্রসাদকে তুচ্ছ করিয়া বিদ্যাসাগর মহাশয় সেই চিরপ্রচলিত ব্রাহ্মণপণ্ডিতের বেশে আজীবন ক্ষেপণ করিয়া গিয়াছেন। মাত পিতাকে অন্নে বঞ্চিত করিয়া সপাদুকা দেবগৃহে উপবেশন করত যবন-জন-প্রিয় পক্ষী-মাংস সংযোগে ম্লেচ্ছন্ন ভোজন করিয়া বিধবা-বিবাহের fবরোধী" পরিচয়ে হিন্দু নাম ক্রয় করা অপেক্ষা, বিদ্যাগরের ন্যায় পবিত্র জীবন যাপন করিয়া ব্রহ্মচর্য্যপালন ক্ষমা বালিকা বিধবার বিবাহ দেওয়া সহস্ৰগুণে শ্ৰেয়: । ১ম নাগ । যাক, ও সব তর্ক-বিতর্কের দিন আজ নয়, আঞ্জ দোষ-গুণ-বিচারের দিন নয়, কাদিবার দিন, এস সকলে মিলিয়৷ নয়নঞ্জলে তার চিতাভস্ম ধৌত করি, আর তাহার কোন স্মরণার্থ চিহ্নস্থাপনবিষয়ে স্থির করি । ৫ম নাগ। র্তাহার স্মরণার্থ চিহ্ন তো তিনি আপনিই স্থাপন করিয়া গিয়াছেন, যতদিন বঙ্গভাষা জীবিত থাকিবে, ততদিন তিনি সকলের স্মৃতিপথে বিরাজ করিবেন, যে যে ব্যক্তি বঙ্গভাষা শিক্ষা করিবে, সেই সেই ব্যক্তিই উহার স্মরণার্থ চিহ্ন ; যত জন তাঙ্কার অর্থে অনুকম্পায় বিদ্যা শিক্ষা করিয়া २४¢ পদসম্রম লাভ করিয়াছে, তারা সকলেই র্তার স্মরণার্থ চিহ্ন ; তাঙ্গর স্থাপিত বিদ্যামন্দির সকল, র্তাহার প্রণীত গ্রন্থাবলী, তাহার দানভাণ্ডার সকলই তার অক্ষয় স্মরণচিহ্ন ; যাহার পবিত্র নামোচ্চারণ করিয়া লোকে প্রাতে শয্যা ত্যাগ করিবে, তাহার জন্ত আবার অন্ত স্মরণচিহ্নের প্রয়োজন কি ? ১ম নাগ । না না, কি জান, তবু এখনকার একটা প্রথা হয়েছে, একটা পরিদৃশুমান স্থায়ী স্মরণচিহ্ন স্থাপন করা আবশুক ন৷ হ’লে আমাদের দেশের কলঙ্ক হবে । ৫ম নাগ । কি, পট প্রতিমাদি ? যে মহা যাবজ্জীবন আড়ম্বরের বিরোধী ছিলেন, তাহার স্বর্গগত আত্মার মর্ত্যের কার্যের প্রতি যদি লক্ষ্য থাকে, তাহা হইলে এরূপ সন্মানপ্রদর্শন কখনই উtহার অনুমোদিত হইবে না। চিত্র তো তার প্রতি হৃদয়ে অঙ্কিত, দেবদেবীর পটের সঙ্গে বিদ্যাসাগরের পট বই গৃহে বিরাজ করিতেছে, ভবিষ্যতে প্রতি গৃহে প্রতিষ্ঠিত হইবে । সেই আদর্শ মহাপুরুষের প্রদর্শিত সংপথের অনুসরণ করিয়া কিঞ্চিন্মাত্রও অগ্রবর্তী হইতে পারিলে আমরা র্তাহার যথার্থ সন্মান প্রদর্শন করিব । তবে লৌকিকতার অমুরোধে একান্তই যদি কোন দশন-চিহ্ন স্থাপন করিবার আবশ্যক হয়, তাহা হইলে আমার মতে বৈদেশিক চিত্রকরভাস্করাদির উদর পরিপূর্ণ না করিয়া, যে মহাকার্য্যের জন্য তিনি ধন মন প্রাণ দান করিয়াছিলেন, সেইরূপ কোন কার্য্য করা উচিত ; একটী অনাখাশ্রম-স্থাপন, যেখানে আনস্কোপায় বালক গণ গ্রাস!চ্ছাদন ও বিদ্যাদীন প্রাপ্ত হইয়া সংসাব্লক্ষেত্রে প্রবেশ করত যাবজ্জীবন সেই মহাপুরুষ বিদ্যাসাগরের নাম গান করিতে পারে, ইহাই বোধ হয়, সৰ্ব্বতোভাবে প্রশংসনীয় ।