পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/১৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


y ve অরক্ষণীয়া জানে। আমি বলি কি-কাল দিনটে ভাল আছে, কালই চলে যাও। দুর্গামণি একবার মনে মনে অতুলের কথা ভাবিলেন, কিন্তু ইহার সাক্ষাতে কোন কথা কহিলেন না। কারণ, এই বড়াজায়ের সম্বন্ধেই অতুলের সঙ্গে তাঁর সম্বন্ধ। স্বর্ণ অতুলের মায়ের মামাত বোন। সেদিন যেমন করিয়া জ্ঞানদা অতুলের পায়ের উপর পাড়িয়া কাদাকাটা করিয়াছিল, মা তাহা দেখিয়াছিলেন বটে, কিন্তু অত-বড় বিপদ মাথার উপর লইয়া ইহার বিশেষ অর্থ ভাবিয়া দেখেন নাই । কিন্তু দুঃখীর ঘরে ত একান্ত-মনে শোক করিবারও অবসর নাই। তাই স্বামীর মৃত্যুর পরের দিন হইতেই এই কথাটা চিন্তা করিতেছিলেন। ঘরে গিয়া দেখিলেন, মেয়ে চুপ করিয়া মেঝের উপর বসিয়া আছে। ধীরে ধীরে তাহার কাছে বসিয়া কহিলেন, দিদি যা বললেন, শুনেচিস্ত ? মেয়ে ঘাড় নাড়িয়া জবাব দিল । তার পরে যে তিনি কি বলিবেন। ভাবিয়া পাইলেন না। কিন্তু মেয়ে নিজেই তাহার সুবিধা করিয়া দিল। কহিল, কখখনো ত বাপের বাড়ি যাওনি মা, এ-সময় একবার কেন চল না ? মা বলিলেন, মা বেঁচে নেই ; দাদা কোনদিন খোজ নিলেন না । এত-বড় বিপদ শুনেও একটা চিঠি পর্যন্ত লিখলেন না । কেমন করে তাদের কাছে সেধে যাই, বল দেখি মা ? মেয়ে কহিল, দুঃখীর খোজ কেউ কখনো সেধে নেয় না। মা । তঁরা নেননি-এরাও ত নেন না । এরা বরং যেতেই বলচোন। আমাদের মান-অভিমান বাবার সঙ্গেই চলে গেছে, মা । চল, আমরা সেখানে গিয়েই থাকি গে । মায়ের চোখ দিয়া জল পড়িতে লাগিল। মেয়ে সস্নেহে মুছাইয়া দিয়া কহিল, আমি জানি, শুধু আমার জন্যেই তুমি কোথাও যেতে চাও না । নইলে, জ্যাঠাইমার কথা শুনে একটা দিনও তুমি এখানে থাকতে