পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া Σ ο বাবা আমার ফিরে এসেই, সকাল হতে না হতেই দু’গাছি চুড়ি দেবার ছল করে মাকে আমার দেখতে এসেছিল । ওগো, আর একটা বছর কেন তুমি বেঁচে থেকে চােখে দেখে গেলে না। বলিয়া তিনি উদ্ধৃসিত ক্ৰন্দন বস্ত্ৰাঞ্চল দিয়া রোধ করিলেন । বলি মেজবৌ ? দুর্গামণি তাড়াতাড়ি মেয়েকে বুক হইতে ঠেলিয়া দিয়া, চােখটা মুছিয়া লইয়া সাড়া দিলেন, কেন দিদি ? বড়বেী একবার ঘরের ভিতর দৃষ্টিপাত করিয়া কঠিনম্বরে বলিলেন, তোমাদের না হয় শোকের শরীরে ক্ষিদে-তেষ্টা নেই ; কিন্তু বাড়ির আর সবাই ত উপোস করে থাকতে পারে না । বেরিয়ে একবার বেলার দিকে চেয়ে দেখ দেখি । দুর্গামণি শশব্যাস্তে ঘরের বাহিরে আসিয়া দাড়াইলেন। বেলার দিকে চাহিয়া লজ্জিত-মুখে মেয়ের নাম করিয়া কি একটুখানি জবাবদিহি করিতেই, স্বর্ণমঞ্জরী তীক্ষ্মভাবে বলিলেন, বেশ ত, হেঁসেলটা চুকিয়ে দিয়ে মেয়েকে কাছে বসিয়ে সারাদিন বোঝাও ন-আমি কথাটিও ক’ব না । কিন্তু আমার ছেলে-মেয়েগুলো যে পিত্তি পড়ে মারা যায় । না বাপু, এমনধারা সব অনাছিষ্টি কাণ্ড আমি সইতে পারব না। বলিয়া নিঃসন্তান বড়বেী ছোটবধুর সন্তানদের প্রতি মাতৃস্নেহের পরাকাষ্ঠা প্ৰদৰ্শন করিয়া উত্তরের জন্য প্রতীক্ষা না করিয়াই চলিয়া গেলেন। অনাথের সংসারে পুনরায় প্রবেশ করা অবধি দুর্গাকেই রান্নাঘরের সমস্ত ভার গ্ৰহণ করিতে হইয়াছিল। তাহাতে বড়বে এবং ছোটবীে উভয়েই সমস্ত দিনব্যাপী ছুটি পাইয়া একজন পাড়া বেড়াইয়া এবং খরচপত্র অত্যন্ত বেশি হইতেছে বলিয়া কোন্দল করিয়া, এবং আর একজন ঘুমাইয়া, নভেল পড়িয়া, গল্প করিয়া দিন কাটাইতেছিলেন। অনাথ সাড়ে-আটটায় ডেলি প্যাসেঞ্জার। ভোরে উঠিয়া যথাসময়ে র্তাহার আহাৰ্য্য প্ৰস্তুত করিয়া দেওয়া, এ বাটীতে একটা নিদারুণ