পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


एपद्धकौश So ছোটবৌ কহিল, তাই দিদি, তাই। তাই তখন থেকেই ভাবচি, আমরা বাড়ির লোক কেউ জানলাম না, তোমার বোনপোটি কলকাতায় বসে জানলে কি করে ? তাহলে লোকে যা বলে, তা মিথ্যে-নয় দেখাচি । স্বর্ণ ক্ৰোধে দিগ্বিদিক জ্ঞানশূন্য হইয়া চেচাইয়া বিদ্রুপ করিয়া একটা কাণ্ড করিয়া তুলিলেন। বলিতে লাগিলেন, বেশ ত বাছা, এতই যদি দরিদ জন্মে থাকে, তোমার শাশুড়ী-মাসিকে গঙ্গাযাত্রা করাবে কেন, ঘরেই নিয়ে যাও না । গা-সুদ্ধ লোক বাহবা বাহবা করবে। এখন। র্তাহার বিষের জ্বালায় অতুলেরও মাথা বেঠিক হইয়া গেল। সেও বলিয়া বসিল, বেশ ত মাসিম, তোমরা আপনার লোক, কথাটি যদি দু'দিন আগেই জেনে থাক, ভালই তা। উনি আমার ঘরে গেলে, আমি মাথায় করে নিয়ে যেতে রাজি আছি । তোমাদের গায়ের লোকগুলো তাতে বাহবা দেবে, কি ছি ছি করবে; আমি ভ্ৰক্ষেপও করিনে । কথাটা বলিয়া ফেলিয়া অতুল নিজেও যেমনি লজ্জায় আড়ষ্ট হইয়া উঠিল, তাহার গুরুজনেরাও তেমনি অসহ্য বিস্ময়ে স্তম্ভিত হইয়া রহিলেন। এ যেন অকস্মাৎ কোথা হইতে একটা প্রচণ্ড ঘূর্ণিবায়ু ছটিয়া আসিয়া লঙজা-শরম আড়াল-আবডাল সমস্তই চক্ষের পলকে ভাঙ্গিয়া মুচড়াইয়া উড়াইয়া লইয়া মস্ত একটা ফাকা মাঠের মধ্যে সবাইকে দাড় করাইয়া দিয়া গেল। কাহারও কাছে কাহারও আর গোপন করিবার, রাখিবার-ঢাকিবার জায়গা রহিল না । অতুল নিঃশব্দে বাহির হইয়া গেল। যাদু বাগদী গরুর গাড়ি আনিয়া কহিল, মা, সময় হয়েচে, জিনিসপত্তর কি দেবে দাও । এখন থেকে না বেরুলে ইষ্টিশনে গাড়ি ধরতে পারা যাবে না। বলিয়া সে ঘরে ঢুকিয়া নির্দেশমত সুমুখের টিনের তেরঙ্গের উপর বিছানাটা তুলিয়া নিয়া ঘাড়ে করিয়া বাহির হইয়া গেল। বড়বেী ছোটবেী দ্রুতপদে