পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


之3 অরক্ষণীয়া প্ৰস্থান করিলেন। দুর্গামণি “দুৰ্গা দুর্গা’ বলিয়া ঘরে তালা দিয়া, মেয়ের হাত ধরিয়া নি:শব্দে গাড়িতে গিয়া উঠিলেন। মেয়েটা মূর্সিছতেব মত মায়ের কোলের উপর চোখ বুজিয়া শুইয়া পড়িল । চার এগার বৎসর পরে দুর্গামণি হরিপালে বাপের ভিটায় আসিয়া উপস্থিত হইলেন। তখন শরতের সন্ধ্যা এমনই একটা অস্বাস্থ্যকর ঝান্স ধয়া লইয়া সমস্ত গ্রামখানার উপর হুমড়ি খাইয়া বসিয়াছিল যে, তাহার ভিতরে প্রবেশ করিবামাত্র দুর্গামণির বুকের ভিতরটা স্থাৎ করিয়া উঠিল । বাড়িতে বাপ মা নাই, বড় ভাই আছেন। শাস্তু চাটিয্যের সেদিন ছিল বৈকালিক পালাজ্বরের দিন। অতএব সূর্যাস্তের পরই তিনি প্ৰস্তুত হইয়া বিছানা গ্ৰহণ করিয়াছিলেন । খবর পাইয়। সুপ্ৰাচীন বাল্যাপোশে মাথা এবং দুই কানি ঢাকিয়া খড়ম পায়ে খটখট শব্দে বাহিরে আসিয়া চিনিতে পারিলেন । কে, ও দুর্গা এলি নাকি ? তা আয় আয়। দুৰ্গা কঁদিতে কঁদিতে অগ্রসর হইয়া দাদার পদমূলে প্ৰণাম করিলেন। জ্ঞানদা প্ৰণাম করিলে, কহিলেন, এটি বুঝি মেয়ে ? তা বিয়ে দিলি কোথায় ? দুৰ্গা কুষ্ঠিত-স্বরে কহিলেন, বিয়ে এখনও দিতে পারিনি দাদাযেখানে হোক শিগগিরই - আঁ্যা-বিয়ে দিসনি ? এ যে একটা সোমত্ত মাগী রে দুর্গা ? বহুকাল আদর্শনের পর ভগিনীর প্রতি র্তাহার ঈষৎ করুণ কণ্ঠস্বর একমুহূর্তেই জমিয়া একেবারে কাঠ হইয়া গেল ; বলিলেন, তাই ত, এখানকার আবার যে-সব বজাত লোক-ত জানতে পেলে-তা আমি বলি কি, ওকে হেঁসেল-টেসেল ঠাকুরঘরদোরে ঢুকতে দিয়ে কােজ নেই