পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া জানিস ত এদেশের সমাজ । বিশেষ হরিপাল-এমন পাজি জায়গা কি ভূ-ভারতে আছে। তা আয়, বাড়ির ভিতরে আয় । এতবড় মেয়ে-ওর কাকার কাছে রেখে এলে স্বচ্ছন্দে তুই দু’দিন জুড়িয়ে যেতে পারতিস। এখানে থাকলে ত আর-বুঝলি নে দুৰ্গা-ত যা, এখন হাত-পা ধু গোওগো, কৈ গো, বলিতে বলিতে শাস্তু চাটুয্যে পুনরায় খটখট শব্দ করিয়া অন্দরে প্রবেশ করিলেন । দুৰ্গা এবং তঁহার কন্যা যেমন করিয়া তাহার অনুসরণ করিয়া বাড়ি ঢুকিল, সে শুধু ভগবানই দেখিলেন । শম্ভর এটি দ্বিতীয় পক্ষ। প্ৰথম পক্ষের বৌকে দুৰ্গা দেখিয়াছিলেন, কিন্তু ইহাকে দেখেন নাই । উপস্থিত ইনি যেমনই কালো, তেমনই বোগা এবং লম্বা। ম্যালেরিয়া-জ্বরে রঙটা যেন পোড়া কাঠের মত। তিনদিনের গোবর উঠানের মাঝখানে জমা করা ছিল, তাহা এইমাত্র নিঃশেষ করিয়া ঘুটে দিয়া, হাত-পা ধুইয়া প্ৰদীপের জো করিতেছিলেন, স্বামীর আহবানে সম্মুখে আসিয়া ব্যাপার দেখিয়া থমকিয়া দাড়াইলেন। শাস্তুর জ্বর আসিতেছিল, আগন্তকদের অভ্যর্থনার জন্য স্ত্রীর কাছে ংক্ষেপে ইহাদের পরিচয়দিয়া ঘরে গিয়া ঢুকিলেন। বৌয়ের নাম ভামিনী । মেদিনীপুর জেলার মেয়ে। কথাগুলো একটু বঁকাবঁকা। সে হাসিয়া উপরেব এবং নীচের সমস্ত মাড়িটা অনাবৃত করিয়া ননদের হাত ধরিয়া রান্নাঘরের দাওয়ায় লইয়া গিয়া পিড়ি পাতিয়া বসাইল । তাহার হাসি৷ এবং কথার শ্ৰী দেখিয়া দুর্গার বুকের ভিতর পর্যন্ত শুকাইয়া উঠিল। আসিবার সময় দুৰ্গা একহঁাড়ি রসগোল্লা আনিয়াছিলেন, সেটা নামাইতে না নামাইতে একপাল ছেলে-মেয়ে কোথা হইতে যেন পঙ্গপালের মত ছুটিয়া আসিয়াৰ্ছা কিয়া ধরিল। চেঁচামেচি ঠেলা ঠেলি-সে যেন একটা হাট বসিয়া গেল। তাহদের মা ইহাকে আধখানি, উহাকে সিকিখানি, আর দু'জনকে দুটুকরা বাটিয়া দিয়া, হাঁড়িটা ছো। মারিয়া তুলিয়া লইয়া গিয়া শোবার ঘরের শিকায় টাঙ্গাইয়ারাখিল । ছেলেগুলো যে যাহা পাইয়াছিল অমৃত্যুবৎ, গিলিয়া ফেলিয়া হাতের রস চাটিতে চাটিতে প্ৰস্থান করিল।