পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া O করিয়া কহিল, মামা ! মামাত্বি ফলাতে এসেছেন । নবীনের সঙ্গে বিয়ে দেবে! তাহলে একশ’টাকা সুদে-আসলে শোধ যায়, না ? তাই সে সুপিাত্তর ? বটে ? আমার নিজের দাদা, আমি জানিনে ? তাড়িগাজা খেয়ে পাঁচ ছেলের মা বৌটাকে আটমাস পেটের ওপর লাথি মেরে, মেরে ফেললে কিনা,--তাই অমন সুপাত্তর আর নেই! গলায় দেবার দড়ি জোটে না তোমার ? ধিক । ধিক । শন্তু ভগিনী ভাগিনেয়ীর সমক্ষে ক্ৰোধ সংবরণ করিতে পারিলেন। না। পায়ের খড়ম হাতে লইয়া চীৎকার করিলেন, চুপ করা বলচি, হারামজাদী ! “পোড়া কাঠ” এইবার ক্ষেপিয়া উঠিল। সে এমনি একটা ভয়ংকর ভঙ্গী করিয়া চেচাইতে লাগিল যে, সে বস্তু চোখে না দেখিলে শুধু লেখা পড়িয়া বোঝা যায় না। কহিল, আঁ্যা, আমাকে হারামজাদী ? ফের মুখে আনলে পোড়া কাঠ যদি না মুখে গুজে দি ত পাচু ঘোষালের মেয়ে নই। আমি । জোর করে বিয়ে দেবে ? কেন ? কে তুমি ? ও এসেছে মেয়ে নিয়ে দু’দিন জুড়োতে, কেন তুমি ওকে রাত-দিন ভয় দেখাবে ? আঁশ-বঁটিটা আমার দেখে রেখো। শালা-ভগ্নিপোতের এক সঙ্গে নাক-কান কেটে তবে ছাড়ব । আমার নাম ভামিনী, তা মনে রেখে । সে মূর্তির সামনে শস্তু আর কথা কহিলেন না-ঘরে চলিয়া গেলেন । “পোড়া কাঠ’ তখন দুর্গার পানে ফিরিয়া কহিল, ও কি সোজা চামার, ঠাকুরবি ! তোমার আসা পর্যন্ত মতলব আঁটছে-কি করে আমন সোনার প্রতিমা বঁাদরের হাতে দিয়ে ধার শোধ করে জমি খালাস করে নেবে। আবার বলে-মামা আমি ! একটুখানি দম লইয়া কহিতে লাগিল, বললে তুমি মনে কষ্ট করবে, আমি বলতাম না ঠাকুরবি। বললাম, মেয়েটা জ্বরে মরে যায়, একটা