পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


83 অরক্ষণীয়া চিনিত বলিয়া কথা কহিল না। বড়জা। যেমন মুখরা, তেমনি আত্মমর্যাদাজ্ঞানশূন্য। মুখের উপর তাহার সহস্ৰ দোষ দেখাইয়া দিলেও লজ্জা পাইবে না, বরঞ্চ অধিকতর নিষ্ঠুর হইয়া যন্ত্রণা দিবে জানিয়াই ছোটবেী নীরবে জ্ঞানদার অনুসরণ করিয়া রান্নাঘরে আসিয়া, সস্নেহে সযত্নে তাহার হাতখানি ধরিয়া কহিল, দিদির কথাটা কেন শুনিস मेिं भी ? এতক্ষণের এত কঠোর লাঞ্ছনা। সে সহিয়াছিল, কিন্তু এই স্নেহের অনুযোগ সহিতে পারিল না। একটিবার মাত্ৰ চোখ তুলিয়া ছোটঋড়ির মুখের পানে চাহিয়াই সে তাহার পদতলে ভাঙ্গিয়া পড়িলআমাকে কেউ নিষেধ করে দেয়নি খুড়িমা, বলিয়া উচ্ছসিত হইয়া বঁটা দিয়া ফেলিল । ছোটখুড়ি কাছে বসিয়া তাহার চোেখ মুছাইয়া দিল, কিন্তু কি বলিয়া যে এই মেয়েটাকে সান্তন দিবে, তাহা ভাবিয়া পাইল না । এমনি করিয়া এই শ্ৰীহীনা হতভাগ্য অনুঢ়া কন্যার দিন কাটিতে লাগিল। ঘরে-বাইরে আত্মীয়-পর সবাই মিলিয়া অনুক্ষণ কেবল লাঞ্ছনা দিতেই লাগিল, কিন্তু পরিত্রাণ করিবার কেহ চেষ্টামাত্ৰও করিল না। उ) আজকাল ধরিয়া না তুলিলে দুৰ্গা প্ৰায় উঠিতেই পারিতেন না। মেয়ে ছাড়া তঁহার কোন উপায়ই ছিল না। তাই সহস্র কর্মের মধ্যেও জ্ঞানদা যখন তখন ঘরে ঢুকিয়া মায়ের কাছে বৃসিত। আজিকার সকালেও একটুখানি ফাঁক পাইয়া, কাছে বসিয়া আস্তে আস্তে মায়ের পিঠে হাত বুলাইয়া দিতেছিল। সহসা একটা অত্যন্ত সুপরিচিত কণ্ঠস্বরে তাহার বুকের ভিতরটা ধক করিয়া উঠিল।