পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া । 8) দোলের দিন। ছুটির বন্ধে অতুল বাড়ি আসিয়াছিল। দুইতিনজন পাড়ার সঙ্গী লইয়া, রঙ মাখিয়া পকেট ভরিয়া আবীর লইয়া সে ‘মাসীমা’ বলিয়া উচ্চকণ্ঠে ডাক দিয়া বাড়ি ঢুকিল । দুৰ্গা তন্দ্ৰায় জাগরণে সারাদিন একপ্ৰকার আচ্ছন্নের মত পড়িয়া থাকিতেন। পাছে কণ্ঠস্বর কানে গেলে মা সজাগ হইয়া উঠেন, এই ভয়ে জ্ঞানদা ত্ৰস্ত হইয়া উঠিল। মনে মনে ইনি যে এই লোকটিরই প্ৰতীক্ষা করিতেছেন, তাহা সে জানিত । অথচ তঁহার সেই স্বাভাবিক ধৈৰ্য, গাম্ভীৰ্য, আত্মসম্মান আর যেন ছিল না। বুদ্ধিবিবেচনাও কেমন যেন দ্রুত বিকৃত হইয়া উঠিতেছিল । তাহার যে জননী কলহের ছায়া দেখিলেও শঙ্কিত হইতেন, তিনি আজকাল ইহাতেও যেন বিমুখ নন-সে। লক্ষ্য করিয়া দেখিতেছিল। সুতরাং উভয়ের দেখা হইলে একটা অত্যন্ত অশোভন কলহ যে অনিবাৰ্য, এ-কথা তাহার অন্তর্যামী আজি বলিয়া দিলেন । কি করিলে যে এই বিপদ এড়াইতে পারা যায় ভাবিয়া সে ব্যাকুল হইয়া উঠিল । পা টিপিয়া উঠিয়া সে কপাট রুদ্ধ করিতেছিল, মা বলিলেন, জ্ঞানদা, অতুল কথা কইলে না ? জ্ঞানদা ফিরিয়া আসিয়া কহিল, কি জানি মা- তিনি নন। বোধ হয় । হঁ্যা, হ্যা, সে-ই বৈ কি ! উঠে একবার দেখা দিকি । তর্ক করিলেই ক্রুদ্ধ হইয়া উঠিবেন—তাহা সে জানিত ; তাই ধীরে ধীরে উঠিয়া গিয়া উকি মারিয়া দেখিবার চেষ্টা করিল, কিন্তু দেখা গোল না। শুধু বারান্দার ওধারে অনেকের মধ্যে র্তাহারও কণ্ঠস্বর তাহার কানে গেল। এইটুকু খবর লইয়াই সে ফিরিতে পারিত, কিন্তু অন্তরাল হইতে একবার তঁহার মুখখানি দেখিয়া লইবার লোভ তাহাকে যেন ঠেলিয়া লইয়া গেল । সে নিঃশব্দে আগাইয়া আসিয়া একটা থামের আড়ালে দাড়াইয়া দেখিল, তিনি বড়মাসীর পায়ের উপর মুঠা করিয়া