পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৪৮

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


88 অরক্ষণীয়া আবীর দিয়া হাসিতেছেন। পাড়ার ছেলেরাও দেখাদেখি তাঁহাই করিতেছে। ছোটবেী ছিল না। একটা ব্যথার মত হওয়াতে আজ সে ঘর ছাড়িয়া বাহির হয় নাই। ফিরিবে ফিরিবে করিয়াও নিজের অজ্ঞাতসারে বোধ করি জ্ঞানদার একটু বিলম্ব ঘটয়াছিল, অকস্মাৎ, বাজাহতপ্ৰায় হইয়া দেখিল, সে যে ভয় করিয়াছিল। ঠিক তাই, মা হেলিয়া-দুলিয়া সেইদিকে bशिाgछ्न् । ছুটিয়া গিয়া দুই বাহু দিয়া জড়াইয়া ধরিয়া ব্যাকুলকণ্ঠে কহিল, যেয়ে না। মা, ফেরে । দুৰ্গা চক্ষু রক্তবর্ণ করিয়া কহিলেন, কেন ? কেন জানিনে মা, তুমি ফেরো । তার ত কোন আশাই নেই মাআমাকে ছাড় হতভাগী-ছেড়ে দে ! বলিয়া অমানুষিক বলে দুর্গ নিজেকে মুক্ত করিয়া লইয়া অগ্রসর হইয়া গেলেন। জ্ঞানদা কলের পুতুলের মত র্তাহাকে অনুসরণ করিয়া পিছনে গিয়া দাড়াইল । সবাই আশ্চর্য হইয়া চাহিয়া দেখিল- মেজবৌ ? তঁহার সেই কঙ্কালসার মুখমণ্ডলে ক্ষুধিত ব্যাভ্রের দৃষ্টি ছিল। সেই দুটা জ্বলন্ত চক্ষুর পানে চাহিয়া অতুল সািভয়ে দৃষ্টি অবনত করিল। দুৰ্গা বলিলেন, অতুল, আমরা তোমার কি করেছিলাম যে, এমন করে আমাদের সর্বনাশ করলে ? অতুল জবাব দিবে কি, অপরাধের ভারে ঘােড় তুলিতেই পারিল না। সেই কাজটা করিলেন স্বর্ণ। হৃদয় বলিয়া তাহার ত কোন বালাই ছিল না, তাই অতি সহজেই মুখ তুলিয়া কহিলেন, কেন, কী সর্বনাশ করেচে। শুনি ? দুৰ্গা বলিলেন, তোমাকে তার কি জবাব দেব দিদি, যাকে বলচি সে-ই জানে কি করেচে। স্বর্ণ কহিলেন, আমরাও ঘাস খাইনে মেজবৌ ; কিন্তু ও কি তোমার