পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


8ኳr अद्भझौg দীর্ঘজীবী হও মা ! বলিয়া আশীৰ্বাদ করিয়া দুৰ্গা নির্নিমেষ, চক্ষে চাহিয়া রহিলন। একে সুন্দরী, তাহাতে মামী সাজাইয়া-গুছাইয়া পাঠাইয়া দিয়াছিল। মামী কলিকাতায় মেয়ে-কেমন করিয়া সাজাইয়া দিতে হয় জানে। গায়ে গুটি কয়েক বাছা বাছা স্বর্ণালঙ্কার, পরনে কেঁচানো চওড়া লালপোড়ে শাড়ি, পিঠের উপর চুল এলা করা, কপালে টিপা। চাহিয়া চাহিয়া দুৰ্গার চোখের পাতা আর পড়ে না। হঠাৎ একটা দীর্ঘনিঃশ্বাসের সঙ্গে মুখ দিয়া বাহির হইয়া আসিল—আহা! মেয়ে তা নয়- যেন স্বর্ণ-প্ৰতিমা । এবং সঙ্গে সঙ্গেই তঁহার পদতলে উপবিষ্ট নিজের ঐ মলিন শ্ৰীহীন মেয়েটার পানে চাহিয়া তাহার দু'চক্ষু সহসা যেন জ্বলিয়া গেল ; পাশ ফিরিয়া রুক্ষম্বরে কহিলেন, আর আমি মেয়ে পেটে ধরেচি যেন কালপ্যাচা। মাধুৰী ঘরে ঢুকিবামাত্রই তাহার রূপ এবং সাজসজ্জার পানে চাহিয়া জ্ঞানদা নিজেই তা হীনতার সঙ্কোচে মাটির সঙ্গে মিশাইয়া গিয়াছিল। মাধুরী কহিল, দিদি, চল না একটু গল্প করি গে। প্ৰত্যুত্তরে জ্ঞানদা অব্যক্ত স্বরে কি কহিল, বোঝা গেল না। কিন্তু সেই শব্দটা মাত্ৰ শুনিতে পাইয়াই দুৰ্গা তিক্তকণ্ঠে বলিয়া উঠিলেন, ও পোড়ামুখ লোকের সামনে আর বার করিসনে গেনি-বসে থাক। জ্ঞানদা নীরবে বসিয়া রহিল। মাধুরী চলিয়া গেলে, দুর্গা বোধ করি নিতান্তই মনের জ্বালায় বারদুই আঃ উঃ করিলেন। জ্ঞানদা আস্তে আস্তে কহিল, কপালটা একটু টিপে দেব মা ? Fil l ওষুধটা একবারওলো, না, না, না। যা, আমার বিছানা থেকে উঠে যা, হারামজাদী। তোর মুখ দেখলেও আমার সর্বাঙ্গ যেন জ্বলে পুড়ে যায়। --বলিয়া পা দিয়া তিনি মেয়েকে সজোরে ঠেলিয়া দিলেন।