পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


to অরক্ষণীয়া কাল আর শুনিতেই পাওয়া যাইত না । দেবরের আকস্মিক আত্মীয়তায় দুৰ্গা শঙ্কিত হইয়া উঠিলেন। তথাপি অব্যক্ত-স্বরে প্রত্যুত্তরে যাহা কহিলেন, অনাথ ঘাড়টা কাৎ করিয়া বিশেষ চেষ্টা করিয়া শুনিয়া, কহিল, সে ত সত্যি কথাই বৌঠান। বিধবা হয়ে আর বেঁচে লাভ কি,-কোন হিন্দুসন্তান একথার প্রতিবাদ করবে বল ? তবে কিনা, আত্মহত্যাটা না করে কোন গতিকে ক’টা দিন সংসারে থাকা । তোমার আবার যে-রকম দেহের অবস্থা, তাতে এ সব কথা আমার না। বলাই উচিত, কিন্তু না বললেও যে নয়। কিনা, তাই বলি কিনিজেও দেখতে পাচ্চ-চেষ্টার আমি ত্রুটি করাচিনে ; কিন্তু কি হতভাগা। মেয়ে-কোনমতেই কি একটা গাথচে না !! ছ-সাতটা সম্বন্ধ-সব ক’টাই ভেঙে গেল - মেয়ে দেখে আর কারুর পছন্দ হল না । দুর্গ কিছুই বলিলেন না। একটুখানি থামিয়া অনাথ পুনরায় কহিতে লাগিল, মেজদা মারে তুমি আবাব আমার সংসারে এসেছ কিনা ! গোল হচ্ছে ত তাই নিয়ে। নীলকণ্ঠ মুখুয্যেকে ত চেনই-বাড়ি বাড়ি গিয়ে বেশ তালগোল পাকাচ্চে-তোমার ছুতো করে আমাকে কি করে ঠেলবে । আর, তাদের দোষই বা দিই কি করে, নিজেরাও ত মেয়ের বয়সটা দেখতে পাচ্চি। আবার তাও বলি, শহরে বাপু এত নেই।--পোড়া পাড়াগায়েই আমাদের যত হাঙ্গামা, যত বিচার । বলিয়া জোর করিয়া একটা দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিল। এ দেবীর যে কিসের ভূমিকা করিতেছেন, কোন দিকে ইহার গতি, তাহা ধরিতে না পারিয়া দুৰ্গা তেমনি নিঃশব্দে চাহিয়া রহিলেন ; কিন্তু শীর্ণ মুখের উপর একটা অনিশ্চিত শঙ্কার ছায়া পড়িল । একবার কাশিয়া একটু ইতস্ততঃ করিয়া অনাথ এইবার আসল কথা প্ৰকাশ করিল ; কহিল, তোমার এ অবস্থায় সত্যিই ত আর কোথাও যাওয়া-আসা চলে না-সে। আমি বলিনে ; কিন্তু কি জানো মেজবৌঠান