পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া d দুপুরবেলা এই দুটি যুবক আহারে বসিল, স্বর্ণ কাছে আসিয়া বসিলেন । শখ করিয়া তিনি মাধুরীর উপর পরিবেশনের ভার দিয়াছিলেন । সকাল বেলায় আঁশি-রান্নাটা জ্ঞানদাকে দিয়াই রাধাইয়া লওয়া হইত, কিন্তু তাহ গোপনে । বাহিরের কেহ জিজ্ঞাসা করিলেই সূর্ণ অসঙ্কোচে কহিতেন, মা গো । সে কি কথা ! ওকে যে আমরা রান্নাঘরেই ঢুকতে দিইনে । সুতরাং পরিবেশন করা তাহার পক্ষে একেবারে নিষিদ্ধ ছিল। তা ছাড়া নিজের লজ্জাতেই সে কাহারও সাক্ষাতে বাহির হইত না - যতদূর সাধ্য ঘরের বাহিরের সকলের দৃষ্টি এড়াইয়াই সে চলিত । অতুলের সহিত মাধুরীর বিবাহ হইবে। তাই এই সুন্দরী মেয়েটি সর্বাঙ্গে সাজসজ্জা এবং ব্ৰহ্মাণ্ডের লজ্জা জড়াইয়া লইয়া অপটি হস্তে যখন পরিবেশন করিতে গিয়া কেবলি ভুল করিতে লাগিল—এবং জ্যাঠাইম সস্নেহ-অনুযোগের স্বরে, কখনো বা ‘পোড়ামুখী বলিয়া, কখনো লা “হ তভাগী’ বলিয়া, হাসিয়া তামাশা করিয়া কাজ শিখাইতে লাগিলেন।--তখন বিশ্বের পায়ে-ঠলা আর একটি মেয়ে ইহারাষ্ট জন্য রন্ধনশালায় নিভৃতে একান্তে বসিয়া মাথা হেঁট করিয়া সর্বপ্ৰকার অ্যাহায্য গুছাইয়া দিতে লাগিল । স্বর্ণ মাধুরীর বিবাহের কথা তুলিতেই, সে ছুটিয়া রান্নাঘরে আসিয়া উপস্থিত হইল। জ্ঞানদা জিজ্ঞাসা করিল, কি চাই ভাই ? কিছু না দিদি, আমি আর পারিনে।-বলিয়া হাতের খালি থালাটা দুম করিয়া মাটিতে নিক্ষেপ করিয়া ছুটিয়া পলাইয়া গেল। পরীক্ষণেই স্বর্ণ চোইয়া ডাকিলেন, একটু নুন দিয়ে যা দেখি মা। কিন্তু নুন লইবার জন্য মাধুরী ফিরিয়া আসিল না। তিনি আবার ডাকিলেন, কৈ রে-তোর ছোট মামা যে বসে আছে। তথাপি কেহ ফিরিল না। এবার তিনি রাগ করিয়া উচ্চকণ্ঠে বলিলেন,-কথা কি কারু। কানো যায় না ? এরা কি উঠে যাবে নাকি ?