পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া R চোখে পড়িতে পারিত, এই সুশ্ৰী ছেলেটিরও মুখের উপরে দীপ্তি খেলিয়া একটা অদৃশ্য তড়িৎ-প্রবাহ মুহুর্তের মধ্যে মিলাইয়া গেল। অতুল আসনে বসিয়া তীর্থ প্রবাসের গল্প বলিতে লাগিল । তাহার বাপ একজন সেকেলে সদর আলী ছিলেন । অনেক টাকাকড়ি এবং বিষয়-সম্পত্তি করিয়া পেন্সন লইয়া ঘরে বসিয়াছিলেন ; বছর চারেক হইল, ইহলোক ত্যাগ করিয়া গিয়াছেন। বি. এ. একজামিন দিয়া অতুল মাস-দুই পূর্বে মাকে লইয়া তীর্থপর্যটনে বাহির হইয়াছিল। সম্প্রতি রামেশ্বর হইয়া, পুরী হইয়া কাল ঘরে ফিরিয়াছে। গল্প শুনিয়া দুৰ্গামণি একটা নিঃশ্বাস ফেলিয়া বলিলেন, আর এমনি মহাপাতকী আমি যে, আর কিছু না হোক, একবার কাশী গিয়ে বাবা বিশ্বেশ্বরের চরণ দর্শন করে আসব, এ-জন্মে সে সাধটাও কখনো পূরলে না। অতুল কহিল, কাশীই বল, আর যাই বল মেজমাসিম, একবার সব ছেড়ে-ছুড়ে জোর করে বেরিয়ে পড়তে না পারলে আর হয় না। আমি আমন জোর করে না নিয়ে গেলে, আমার মায়েরই কি যাওয়া হ’ত ? দুর্গামণি আর একটি দীর্ঘনিঃশ্বাস ত্যাগ করিয়া কহিলেন, জানিস ত বাবা সব। জোর করব কি দিয়ে বল দেখি ? তিরিশটি টাকা মাইনের উপর খেয়ে-পরে লোক-লৌকিকতা কুটুম্বিতে করে, ডাক্তারবদ্যি ওষুধের খরচ যুগিয়ে কি থাকে বল দেখি ? আর এই মেয়েটা দেখতে দেখতে তেরোয় পা দিলে । তোকে সত্যি বলচি অতুল, ওর পানে চাইলেই যেন আমার বুকের রক্ত হু হু করে শুকিয়ে যায়। উ:! এতবড় শত্রুকেও পেটে ধরে মাকে লালন-পালন করতে হয়। বলিতে বলিতে র্তাহার দুই চক্ষু সজল হইয়া উঠিল। কিন্তু আশ্চর্য এই যে, অতুল এত বড় দুশ্চিন্তা ও কাতরোক্তির সম্মুখেও ফিক করিয়া হাসিয়া ফেলিল; কহিল, মাসিমার সব