পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া اوا গ্রামের লোক ‘জাতি মারিবে’ বলিয়া যে অহনিশি চোখ রাঙাইয়া শাসাইতেছে। প্ৰতীক্ষা করিবার আর তিলার্ধ অবসর নাই-বিদায় কর, বিদায় কর । যেমন করিয়া হোক, যাহার হাতে হোক-কাল তাহার বৈধব্য অনিবাৰ্য জানিয়া হোক, অসহ্য দুঃখ ও চিরদারিদ্র্য চোখের উপর জাজ্জ্বল্যমান দেখিয়া হোক, তাহাকে সঁপিয়া দিয়া জাতি-ধর্ম এবং পিতৃপুরুষের পারলৌকিক প্রাণ রক্ষা কর। তখনো ঘরে সন্ধ্যাব আলো জ্বালা হয় নাইট । সেই অন্ধকারে লুকাইয়া জ্ঞানদা। তাহার লাঞ্ছিত সাজ-সজ খলিয়া ফেলিবার জন্য নিঃশব্দে প্ৰবেশ করিল। দুৰ্গা মড়ার ম৩ পড়িয়া রহিলেন। খানিক পরে সে হতভাগ্য কঠিন অপরাধার ম৩ নীরবে মায়ের পদ প্রান্তে আসিয়া যখন বসিল, জননী জানিতে পারিয়া ও সাড়া দিলেন না । তার পরে তেমনি নিঃশব্দে বস্তৃক্ষণ অপেক্ষা করিয়া, আভুক্ত পীড়িত কন্যা শ্ৰান্তির ভারে সেইখানেই ঢলিয়া ঘুমাইয়া পড়িল । সমস্ত অনুভব করিয়াও মায়ের প্রাণে আজ লেশমাত্র দয়ার সঞ্চার হইল না । Wat দুর্গার এমন অবস্থা যে কখন কি ঘটে বলা যায় না । তাহার উপর যখন তিনি পাড়ার সর্বশাস্ত্ৰদশী প্ৰবীণাদের মুখে শুনিলেন, তাহার প্ৰাপ্তবয়স্ক অনুঢ়া কন্যা শুধু যে পিতৃপুরুষদিগেরই দিন দিন অধোগতি করিতেছে তাহা নহে, তাহার নিজেরও মরণকালে সে কোন কাজেই আসিবে না।--তাহার হাতের জল এবং আগুন উভয়ই অস্পৃশ্য — তখন শাস্ত্ৰ শুনিয়া এই আসন্ন-পরলোকযাত্রীর পাংশু মুখ কিছুক্ষণের জন্য একেবারে কাগজের মত সাদা হইয়া রহিল। বহুদিন ধরিয়া আবিশ্রান্ত ঘা খাইয়া খাইয়া তাহার স্নেহের স্থানটা কি একপ্রকার যেন অসাড় হইয়া আসিতেছিল । যে মেয়ের প্রতি