পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া খবর পাইয়া চারি-পাঁচজন কন্যাভারগ্ৰস্ত পিতা আসিয়া তাহাকে সাধাসাধি করিয়া গিয়াছে বলিয়া । এত কষ্টর বিয়ে, তবুও যে শুনিল গোপালকে কন্যা দান করা হইবে।-সে-ই ছি ছিা করিল । কিন্তু জননীর তাহাতে মন টলিল না । তিনি যে এখন পরলোকের যাত্রী ; সে যাত্রার পাথেয় শাস্ত্ৰ-নির্দেশ মত যেমন করিয়া হোক তঁহার সংগ্ৰহ হওয়া যে নিতান্তই চাই । বাঙালীর মেয়ে-কত জন্ম-জন্মান্তর ধরিয়া যে শাস্ত্রের যুপকাষ্ঠে কন্যা বলি দিয়া আসিয়াছে, আজ পিছাইয়া দাড়াইবে সে কি করিয়া ? আবার দুঃখের উপর দুঃখ, সেই গোপাল বলিয়া পাঠাইল, সে মেয়ে দেখিয়া বিবাহ করিবে ! এ পোড়া দেশে তাহারও শখ আছে এবং পাঁচটি দেখিয়া-শুনিয়া বিবাহ করিবার সুযোগও আছে। গ্রীষ্মের শুষ্ক তৃণ একটা মেঘের বারিপাতেই যেমন উজ্জীবিত হইয়া উঠে, এই একটুমাত্র আশার ইঙ্গিতে দুর্গার মর্যা-আশা চক্ষের পলকে মাথা ঝাড়া দিয়া উঠিল। তিনি অনাথের হাতটা ধরিয়া মিনতি করিয়া কহিলেন, ঠাকুরপো, এইটুকু ছোটভাইয়ের কাজ কর ভাই-হতভাগীর হাতের আগুনটুকু যেন শেষ সময়ে পাই। সামনের পাচুইটা যেন আর কোনমতেই ফসকে না যায়। তুমি বলে এসো ভাই, আজকেই যেন তঁরা মেয়ে দেখে কথাবার্তা পাকা করে যান। বিয়ে না হইলে মায়ের শেষ কাজটাও তাহাকে দিয়া করানো হইবে না-শাস্ত্রে নিষেধ আছে-এ-কথা শুনিয়া জ্ঞানদা নাওয়া-খাওয়া ত্যাগ করিল। সেও ত বাঙালীর মেয়ে-তাহারও বুকের মধ্যে অবিশ্রাম যেন চিতার আগুন জ্বলিতে লাগিল । অপরাহুবেলায় একাকী রান্নাঘরে বসিয়া সে মায়ের জন্য পথ্য প্ৰস্তুত করিতেছিল--রূপের পরীক্ষা দিবার জন্য আর একবার তাহারাডাক পড়িল । স্বর্ণ নিজে ছুটিয়া আসিয়া বলিলেন, ওলো গেনি, ওটা নামিয়ে রেখে শিগগির আয়, তারা দেখতে এসেছে। শুধু একখানা কাপড় পরে আয়,