পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া &ኃጫ বাড়ির দুই-চারিজন ছুটিয়া আসিয়া পড়িল, এবং ঠিক সেই সময়েই অকস্মাং কোথা হইতে অতুল আসিয়া উপস্থিত হইল। সেও ছাঁটার ট্রেনে কলিকাতায় যাইতেছিল এবং পথের মধ্যে চীৎকার শুনিয়া এই আশঙ্কা করিয়াই বাড়ি ঢুকিয়াছিল। অতুলকে দেখিতে পাইয়া স্বর্ণের রোষ শতগুণ এবং ক্ষোভ সহস্ৰগুণ হইয়া উঠিল। শীর্ণ, সঙ্কুচিত, ভয়ে মৃতকল্প, দুর্ভাগা মেয়েটার ঘাড়টা জোর করিয়া অতুলের মুখের উপর তুলিয়া গৰ্জিয়া উঠিলেন, দ্যাখা অতুল, একবার চেয়ে দ্যাখ! হতভাগী, শতেকখাকী, বাদরীর মুখখান একবার তাকিয়ে দ্যাখ । বাস্তবিক তাহার মুখের পানে চাহিলে হাসি সামলানো যায় না। তাহার ঠোঁটের রং গালে, গালের রং দাড়িতে, অন্ধকার কোণে স্বহস্তে টিপ পরিতে গিয়া সেটা কপালের মাঝখানে লাগিয়াছে। রুক্ষ চুল বোধ করি তাড়াতাড়ি এক-খাবলা তেল দিয়া বঁধিতে গিয়াছিল, তখনো দুই রাগ গড়াইয়া তেল ঝরিতেছে। দুই-একটা মেয়ে পাশ হইতে খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল। একজনের কোলে ছেলে ছিল, সে কহিল, গিনি পিতি থঙ থোজেচে । পিতি, এমনি কোলে জিব বার কলো-বলিয়া সে হা করিয়া জিভ বাহির করিয়া দেখাইল। আর একবার সবাই খিলখিল করিয়া হাসিয়া উঠিল । মুখপোড়া ছেলে!—বলিয়া তাহার মা-ও হাসিয়া ছেলের গালে একটা ঠোেনা মারিলেন। কিন্তু অতুলের বুকের ভিতরটা কে যেন তপ্ত শেল দিয়া বিধিয়া দিল । অনেকদিন হইয়া গেছে, এমন দিবালোকে এত স্পষ্ট করিয়া সে জ্ঞানদার মুখের পানে চাহে নাই। শুধু পরের মুখে শুনিয়াছিল, রোগে বিশ্ৰী হইয়া গেছে। কিন্তু সে বিশ্ৰী যে এই বিশ্ৰী, তাহা সে স্বপ্নেও কল্পনা করে নাই। একদিন সাংঘাতিক রোগে নিজে যখন সে মরণাপন্ন, তখন এই মুখখানাকে সে ভালবাসিয়াছিল। চোখের নেশা