পাতা:অরক্ষণীয়া - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৭৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অরক্ষণীয়া ܘ ܘ যথাসময়ে তাহারা মৃতদেহ লইয়া শ্মশানে যাত্ৰা করিল। সকলের পিছনে জ্ঞানদাও গেল। দুঃখীর মেয়ে বলিয়া পাড়ার কোন মেয়েই তাহার সঙ্গে গেল না ; যাবার কথাও কাহারো মনে হইল না । বর্ষার ভরা গঙ্গা শ্মশানের ঠিক নীচে দিয়াই খরবেগে বহিতেছিল। মায়ের শেষ কাজ মেয়ে নীরবে সাঙ্গ করিল। চিতা যখন ধুধু করিয়া জ্বলিয়া উঠিল, তখন সে পুরুষের ভিড় হইতে সরিয়া নীচে নামিয়া একেবারে জলের ধারে গিয়া বসিল । কেহই নিষেধ করিল না ; কারণ, নিষেধ করিবার কিছু ছিল না। বরঞ্চ এই গভীর শোকের দৃশ্যটাকে চোখের আড়াল করিতেই সে যে নামিয়া গেল, তাহ নিশ্চয় অনুভব করিয়া মুহুর্তের সমবেদনায় অনেকেই “আহাঁ” বলিয়া নিঃশ্বাস ফেলিল । এই চিরদিনের শান্ত, পরমসহিষ্ণু মেয়েট উৎকট কিছু যে করিয়া বসিতে পারে, সে ভয় কাহারও ছিল না-অতুলেরও না । তথাপি তাহাকে খরস্রোতের একান্ত সন্নিকটে গিয়া বসিতে দেখিয়া, তাহার বুকের ভিতরটায় কেমন একরকম করিয়া উঠিল। একবার ভাবিল নিষেধ করে ; একবার ভাবিল কাছে গিয়ে দাঁড়ায় ; কিন্তু লজ্জায়, কুষ্ঠায় কোনটাই পারিল না । অগ্ন্যুত্তাপ বঁাচাইয়া সবাই গিয়া যেখানে বসিয়াছিল, অতুলও গিয়া সেখানে বসিল। সম্মুখের প্রজ্বলিত চিতার পানে চাহিয়া সহসা তাহার মনের মধ্যে সেই চিরদিনের পুরানো প্রশ্ন আবার নূতন করিয়া জাগিয়া উঠিল - কাল যে ছিল, আজ সে নাই ; আজও যে ছিল, তাহারও ঐ নশ্বর দেহটা ধীরে ধীরে ভস্মসাৎ হইতেছে, আর তাহাকে চেনাই যায় না ; অথচ, ওই দেহটাকেই আশ্রয় করিয়া কত আশা, কত আকাজক্ষা, কত ভয়, কত ভাবনাই না ছিল ! কোথায় গেল ? এক নিমিযে কোথায় আন্তহিত হইল ? তবে কি তার দাম ? মরিতেই বা কতক্ষণ লাগে ? সহসা তাহার নিজেরই বিগত জীবন চোখের উপর ভাসিয়া উঠিল। বছর-তিনেক পূর্বে সেওতমরিতে বসিয়াছিল, কিন্তু মরে নাই। অজ্ঞাতসারে