পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/১৪

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


0 অশনি-সংকেত অন্য একটি ছেলের দিকে চেয়ে বললে-তোর বাবা বাড়ী আছে ? ছেলেটি বললে-হ্যা সার--কাল যেন আমায় এসে কমিয়ে যায় বলে দিসহ--সার, বাবা কাল ভিনগাঁয়ে কামাতে গিয়েচে । -এলে বলে দিস। এখানে যেন আসে । • অনঙ্গ-বেী ডেকে পাঠালে বাড়ীর মধ্যে থেকে । গঙ্গাচরণ গিয়ে বললে-ডাকছিলে কেন ? অনঙ্গ বললে—শধ, ছেলেদের নিয়ে বসে থাকলে চলবে ? কাঠ ফুরিয়েছে তার ব্যবস্থা tje গঙ্গাচরণ আশ্চযা হবার সরে বললে-সে কি ? এই যে সেদিন কাঠ কাটিয়ে দিলাম এক-গাড়ী। সব পড়িয়ে ফেললে এর মধ্যে ? অনঙ্গ রাগ করে বললে-কাঠ কি খাবার জিনিস যে খেয়ে ফেলেচি, 2 রোজ এক হাঁড়ি ধান সেদ্ধ হবে, চিটুড়ে কোটা হোল দশ-বারো কাঠা-এতে কাঠ খরচ হয় না ? অনঙ্গ কথাটা একটু গাব ও আনন্দের সরেই বলল, কারণ সে যে দরিদ্র ঘর থেকে এসেচে, সেখানে একদিনে এত ধানের চিড়েকোটারপে সচ্ছলতা স্বপ্নের বিষয় ছিল-যে-দারিদ্র্যের মধ্যে এসে পড়েছিল প্রথম বিশারবাড়ী এস, এখন সে-কথা ভাবতেও যেন পারা যায় না । বাসদেবপাের এসে আগের চেয়ে অবিশ্যি অবস্থা ভালই হয়েছিল। তবে সে গ্রামে শািন্ধ পাঠশালার ছেলে পড়ানোর আয় ছিল সম্পবেল, জিনিসপত্র কেউ দিত না । স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে এখনও বাসদেবপর নিয়ে কথা ওঠে। সেদিনই দর্পরের পর আহারান্তে গঙ্গাচরণ একটু বিশ্রাম করছিল, অনঙ্গ এসে বললেবাসদেবপর আবার যাবার ইচ্ছে আছে ? গঙ্গাচরণ বিসময়ের সঙ্গে বললে-কেন বল দিকি ? --না তাই বলচি । সেখানকার ঘরখানা তো এখনও রেখেই দিয়েচ, বিক্রি করেও তো ta5 = । --তখন কি জানি এখানে বেশ জমে উঠবে ? --ভাতছালার জন্যে কিন্তু মন কেমন করে। সেখানকার পদ্মবিলের কথা মনে আছে ? -পদ্মবিল তো ভালই ছিল । বেশ জল । -চত্তির মাসে জল থাকতো না বটে, কিন্তু না থাকুক বাপ, গাঁখানার লোকগালো ছিল বন্ড ভাল। তিনদিকে মাঠ, একদিকে অতবড় বিল, সন্দির দেখতে ছিল । --তুমি তো বলেছিলে পদ্মবিলের ধারে ঘর বাঁধবে। --ভেবেছিলাম নতুন খড় উঠলেই পদ্মবিলের ধারে ঘর তৈরি করবো। লোকজনকে বলেও রেখেছিলাম । সস্থায় খড় দিত । অনঙ্গ আপন মনে হিসেব করবার ভঙ্গিতে বললে আঙল গানে গনে-হরিহরপরে বিয়ে হোল । সেখান থেকে ভাতছালা, তারপর বাসদেবপাের, তারপর এখানে । অনেক দেশ বেড়ানো হোেল আমাদের-কি বলো ? গঙ্গাচরণ গবের সরে বললে-বলি হরিহরপর গাঁয়ের ক'জন এত দেশ দেখে বেড়িয়েচে ? অনঙ্গ বললে-শাধ দেখে বেড়ানো কি বলো গো ! বাসও করা হয়েচে ।