পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/২৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত SRo গঙ্গাচরণ “গাঁ বন্ধ করা কথাটা প্রথম শনলো। তবও আন্দাজ করে নিল লোকটা কি চাইচে । তাদের গ্রামে যাতে ওলাউঠার অসংখ না ঢোকে, এজন্যে মন্ত্র পড়ে গ্রামের চারিদিক গশিড টেনে দিয়ে মহামারীর আগমন বন্ধ করতে হবে, এই ব্যাপার। কাঁচা লোকের মতো গঙ্গাচরণ তখনই বলে উঠলো না, “হ্যাঁ, এখনি করে দেবো, তাতে আর কি’ ইত্যাদি । সে গভীর ভাবে তামাক টেনে যেতে লাগলো, উত্তরে ‘হ্যাঁ’ কি না। কিছুই বললে না। লোকটি উদ্বিগ্নসারে বললে-ঠাকুর মশায়, হবে তো আমাদের ওপর দয়া ? গংগাচরণ স্থির ভাবে বললে-তাই ভাবচি । -কেন পশ্চিডতমশায় ? এ আপনাকে হাতে নিতেই হবে --বভড শান্ত কাজ । বঙ্ভ শান্ত কিছুক্ষণ দ’জনেই চুপ। পরে লোকটা পনরায় আকুল ভাবে বললে-তবে কি হবে না ? গঙ্গাচরণ নীরব। দ"মিনিট। -পশিডত মশায় ? -বাপ হে, অমন বকবক কোরো না। মাথা ধরিয়ে দিলে যে বকে । দাঁড়াও, ভাবতে 8 লোকটা ধমক খেয়ে চুপ করে রইল, যদিও সে বঝতে পারল না। এতক্ষণ সে অমন কি বকছিল, যাতে পশ্চিডত মশায়ের মাথা ধরতে পারে। নিজে থেকে সে কোনো কথা বলতে আর সাহস করলে না। গঙ্গাচরণ নিজেই খানিকটা চিন্তার পর বললে-কুলকুন্ডলিনী জাগরণ করতে হবে, বঙ্ড শাস্তু কথা । পয়সা খরচ করতে হবে । পারবে ? লোকটা এবার উৎসাহ পেয়ে বললে-আপনি যা বলেন পন্ডিতমশাই । আমাদের গাঁয়ে আমরা ষাট-সত্তর ঘর বাস করি। হিন্দী-মোছলমানে মিলে চাঁদা তুলে খরচ যোগাবো। প্রাণ নিয়ে কথা, আশপাশের গাঁ মরে উজোড় হয়ে যাচে, যদি পয়সা খরচ কল্লি আমাদের প্রাণগলো। বাঁচে --নদীর জল খাও ? -আজ্ঞে হ্যাঁ, আমাদের গাঁয়ের নিচেই বাঁওড়-বাঁওড়ের জল খাই । -গাঁ বন্ধ করলে বাঁওড়ের জল আর খেতে পাবে না কেউ । পাতকুয়োর জল খেতে হবে । -সে আপনি যেমন আজ্ঞে করবেন-কত খরচ হবে বলন । গঙ্গাচরণ মনে মনে হিসেব করবার ভঙ্গি করে কিছুক্ষণ পরে বললে—সবসাকুল্যে প্রায় ত্ৰিশ টাকা খরচ হবে--ফদ করে দিচ্চি নিয়ে যাও । লোকটা যেন নিঃস্বাস ফেলে বাঁচলো। এত গম্ভীর ভূমিকার পর মাত্র ত্রিশটি টাকা খরচের প্রস্তাব সে আশা করে নি। কিন্তু গঙ্গাচরণের উচ্চাশা সীমা পৌছে গিয়েচে, ভাতছালাতেও যাকে স্ত্রীপত্রসহ অনেক সময় দিনে রাতে একবার মাত্র অন্নাহার করে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েচে, সে এর বেশী চাইতে পারে কি করে ? গঙ্গাচরণ বাড়ীর মধ্যে ঢুকে স্ত্রীর সঙ্গে পরামর্শ করলে। সংসারের কি কি দরকার ? অনঙ্গ-বোঁ বেশি আদায় করতে জানে না। স্বামী-স্ত্রীতে পরামর্শ করে একটা ফৰ্দ খাড়া করলে, তেমন ব্যয়সাধ্য ফাঁদ নয় ।