পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SRV अशन्-नकछ মাতঙ্কবর লোকেরা সকলকে কথাটা বলে বঝিয়ে দিলে । সন্ধ্যার আগে গরীর গাড়ী করে ফিরচে, পথে গ্রাম্য পরোহিত দীন ভট্যচায এসে বললেনমস্কার, চললেন -আজ্ঞে হ্যাঁ । - -আমার একটা কথা আছে, গাড়ী থেকে নেমে একটু শােনন গঙ্গাচরণ গাড়ী থেকে নেমে একটা গাছতলায় দাঁড়িয়ে দীন ভটচায্যের সঙ্গে কথা বললে । দীন, ওর হাত ধরে বললে-আমার একটা অন্যুরোধ -श शाँ-दलम—আমায় কিছ দিয়ে যান আজ যা পেলেন-কেন ? --আমি না খেয়ে মরচি। ঘরে এক দানা চাল নেই। চালের দাম হ হ ক'রে বাড়চে । ছিল সাড়ে চার, হোল ছ’টাকা। পাঁচ-ছটি পষ্যি নিয়ে এখন চালাই কি ক'রে বলনে ? আমি নিজে এই বড়ো বয়সে রোজকার না করলে সংসার চলে না। অথচ বড়ো হয়ে পড়েচি বলে এখন আর কেউ ডাকেও না, চোকি আর তেমন ভাল দেখি নে । গঙ্গাচরণ চুপ করে থেকে বললে-তাই তো-বড় মশকিল দেখাচি । আপনার বয়স কত ? --উনসত্তর যাচ্চে। মেয়েরা বড়, ছেলে বড় হােলে ভাল ছিল। এ বড়ো বয়সে রোজাকার করার কেউ নেই। আমি ছাড়া । -চালের দাম কত চড়েচে ? --আরও নাকি চড়বে শনচি। এখনই খেতে পাচ্চি নে-আরও বাড়লে কি কিনে খেতে পারবো ! এই যন্ধর দরণে নাকি অমনটা হচ্চে গঙ্গাচরণ মাঝে-মিশালে শোনে বটে। ষন্ধের কথা । মাঝে মাঝে দ-একখানা এরোপ্লেন মাথার ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে দেখেচে । তবে এ অজ চাবাগীয়ে কেউ খবরের কাগজ নেয় না, শহরও সাত-আট মাইল দরে । গঙ্গাচরণ নিজের ধান্দায় ব্যস্ত থাকে। ওসব চাচা করবার সময়ও তার নেই। তব কথাটা তাকে ভাবিয়ে তুললে । সে বড়ো ভট্টাচার্যকে বললে-যা চাল পেয়েছি, তা থেকে কিচ্ছ আপনি নিয়ে যান-আর কিছ ডাল আর গাওয়া ঘি দীন ভাট চাষ বললে-না, গাওয়া ঘি আমার দরকার নেই। বলে ভাত জোটে নাম গাওয়া ঘি ! আচ্ছা, আমি এই কাপড়ের মড়োতেই চাল ডাল বেধে নিই। আপনি আমায় বাঁচালেন । ভগবান আপনার ভাল করন। কথাটা ভাবতে ভাবতে গঙ্গাচরণ বাড়ী এসে পৌছল। অনঙ্গ-বেী জিনিসপত্র দেখে খব খশি। বললে-চাল এত কম কেন ? -এক বড়ো বামন ভট্টাচাযিাকে কিছ দিয়ে এসেছি পথে । --যাক গে, ভালই করেচ । দিলে তাতে কমে না, বরং বেড়ে যায় । -শনচি নাকি চালের দাম বাড়বে, সবাই বলচে । -ছটাকা থেকে আরও বাড়বে ! বল কি গো ? --সবাই তো বলচে । ষদ্ধর দরণে নাকি এমন হচ্ছে-কার সঙ্গে যক্ষদ্ধ বেধেচে গো ?