পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩১

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত 8 -সে সব তুমি বন্ধতে পারবে না। আমাদের রাজার সঙ্গে জামানি আর জাপানেরসব জিনিস নাকি আক্রা হয়ে উঠবে। --হােক গে, আমাদের তো অধোঁক জিনিস কিনে খেতে হয় না। তবে চালটা যদি বেড়ে যায় --সেই কথাই তো ভাবচি সেদিন বিকেলে বিশ্ববাস মশায়ের বাড়ী বসে এই সব কথার আলোচনা হচ্ছিল। বিশ্ববাস মশায় বললেন-আমাদের ভাবনা কি ? ঘরে আমার দ’গোলা ধান বোঝাই । দেখা যাবে এর পরে । বন্ধ নবদ্বীপ ঘোষাল বললে-এ সব হ্যাঙ্গামা কতদিনে মিটবে ঠাকুর মশাই ? শানচি নাকি কি একটা পরে জারমান নিয়ে নিয়েচে ? বিশ্ববাস মশায় বললে-সিঙ্গাপাের নবদ্বীপ বললে-সে কোন জেলা ? আমাদের এই যশোর, না খােলনে ? মামদপরের दाgछ ? বিশ্ববাস মশায় হেসে বললেন-যশোরও না, খালনেও না। সে হোল সমন্দিরের ধারে । বোধ হয় পরীর কাছে, মেদিনীপর জেলা। তাই না পণ্ডিত মশাই ? গঙ্গাচরণ ভাল জানে না, কিন্তু এদের সামনে অজ্ঞতােটা দেখানো যান্তিযন্ত নয় । সতরাং সে বললে-হাঁ । একটু দরে-পশ্চিম দিকে । ঠিক কাছে নয়। নবদ্বীপ বললে-পরেীর কাছে ? আমার মা একবার পরী গিয়েছিলেন। পরেী, সাক্ষীগোপাল, ভুবনেশ্ববর। সে বঝ মেদিনীপর জেলা ? বিশ্ববাস মশায় বললেন-হ্যাঁ । ভৌগোলিক আলোচনা শেষ হলে যে যার বাড়ীর দিকে চলে গেল । গঙ্গাচরণ পাঠশালায় বসে। পরদিন ছেলেদের জিজ্ঞেস করলে-এই সিঙ্গাপাের কোথায় आन्ािम ? কেউ বলতে পারলে না, কেউ নামই শোনে নি । গঙ্গাচরণ নিজের ছেলের দিকে হাসি হাসি মাখে তাকিয়ে বললে-হাব, সিঙ্গাপাের। কোথায় ? হাব, দাঁড়িয়ে উঠে সাগবে বললে-পরেীর কাছে, মেদিনীপর জেলায় । পাঠশালার অন্যান্য ছেলেরা ঈষমিশ্ৰিত প্রশংসার দস্টিতে হাবরে দিকে চেয়ে রইল । বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে কতকগলি আশ্চর্য পরিবতন লক্ষ্য করলে গঙ্গাচরণ বাজারের জিনিসপত্র কিনতে গিয়ে। প্রত্যেক জিনিসের দাম ক্ৰমশঃ চড়ে যাচ্ছে। কিন্তু তা যাক গে, সেদিন হাটে একটা ঘটনা দেখে শািন্ধ গঙ্গাচরণ নয়, হাটের সব লোকই অবাক হয়ে গেল । ঘটনাটা অতি সামান্য । ইয়াসিন বিশ্ববাসের বড় গোলদারি দোকান। তাতে কেরোসিন তেল আনতে গিয়ে অনেকে শােধ হাতে ফিরে গেল। তেল নাকি নেই ? গঙ্গাচরণের বিশ্ববাস হলো না কথাটা । সে নিজেও তেল নেবে। তেলের বোতল হতে দোকানে গিয়ে দাঁড়াতেই ইয়াসিনের দাদা ইয়াকুব বললে-তেল নেই পণ্ডিত মশাই