পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত RS অনঙ্গ-বৌয়ের হাসি ও চোখের বিলোল দটি প্রমাণ করিয়ে দিলে সে বিগতষৌবনা নয়, পরিষের মন এখনও হরণ করার শক্তি সে হারায় নি । গঙ্গাচরণ স্ত্রীর দিকে চেয়ে রইল মগধ দণ্টিতে । ফালগন মাসের শেষে গঙ্গাচরণ একদিন পাঠশালার ছটি দিয়ে চলে আসছে, কামদেবপরের দািগ পণ্ডিত পথে ওকে ধরে বললে-ভাল আছেন ? সেদিন গিয়েছিলেন কামদেব পাের, আমি ছিলাম না, নমস্কার । -भभ*का ! ठाक भ0िछम -একরকম চলে যাচ্ছে । আপনার সঙ্গেই দেখা করতে আসা । -কেন বলান ? -আমার তো আর ওখানে চলে না । পৌনে সাত টাকা মাইনেতে একেবারে অচল। হোল । চালের মণ হয়েচে দশ টাকা । গঙ্গাচরণের বািকটার মধ্যে ধৰক করে উঠলো। অবিশ্ববাসের দটিতে দােগা পণ্ডিতের দিকে চেয়ে সে বললে-কোথায় শনলেন ? --আপনি জেনে আসন রাধিকাপরের বাজারে । —সেদিন ছিল চার টাকা, হোল ছ’টাকা, এখন অমনি দশ টাকা । -মিথ্যে কথা বলি নি । খোঁজ নিয়ে দেখােন । --মণে চার টাকা চড়ে গেল ! বলেন কি ? --তার চেয়েও একটি কথা শোনলাম, তা আরও ভয়ানক । চাল নাকি এবার না। কিনলে এরপরে বাজারে আর মিলবে না। শনে তো পেটের মধ্যে হােত পা ঢুকে গেল মশাই । গঙ্গাচরণের সঙ্গে সঙ্গে দােগা পন্ডিত ওর বাড়ী পর্যন্ত এল । গঙ্গাচরণের বাইরেরা ঘর নেই, উঠোনের ঘাসের ওপরে মাদর পেতে দাগ পড়িতের বসবার জায়গা করে দিলে । তামাক সেজে হাতে দিলে । বললে-ডাব কেটে দেবো? খাবেন ? -হ্যাঁ, সে তো আপনার হাতের মাঠোর মধ্যে । বেশ আছেন । -আর কিছ, খাবেন ? --না, না, থাক । বসন আপনি । একথা ওকথা হয়, দােগা পড়িত কিন্তু ওঠবার নাম করে না। গঙ্গাচরণ ভাবলে, কামদেবপাের এতটা পথ-যাবে কি করে ? সম্মেদ তো হয়ে গেল । আরও বেশ কিছশক্ষণ কাটলো । গঙ্গাচরণ কিছ বন্ধতে পারচো না । এখনও যায় না কেন ? শীতের বেলা, কোন কালে সত্য অন্তে গিয়েচে । হঠাৎ দােগা পণ্ডিত বললে-হ্যাঁ, ভালো কথা-এবেলা আমি দটাে খাবো। কিন্তু এখানে । -খবেন ? তাহােলে বাড়ীর মধ্যে বলে আসি । অনঙ্গ-বেী রান্নাঘরে চাল ভাজছিল, স্বামীকে দেখে বললে-ওগো, তোমার সেই পন্ডিত মশায়ের জন্যে দটো চাল ভাজচি যে ৷ তেল নতুন মেখে তোমরা দােজনেই খাওগো -শোনো, পণ্ডিত মশাই রাত্তিরে এখানে খাবেন । --তুমি বললে বঝি ? --না। উনিই বলচোন। আমি কিছু বলি নি ।