পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৩৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত 0. হয় হাটের গল্প বলবাবুজন্যে বিশ্ববাস মশায়ের বাড়ী, কি করেই বা তাঁকে সে জানায় ? এসে খিদের ওপর ভাত খেতে পাবে না । সাতপাঁচ ভাবচে, এমন সময় ভান উঠোন থেকে ডাকলে-ও ঠাকরণ দিদি ? অনঙ্গ-বেয়ের প্রাণ এল ফিরে । সে তাড়াতাড়ি বাইরে এসে বললে-বলি কি কাণ্ডখানা, হ্যাঁ রে ভান ? ভান, দাওয়ায় উঠে এসে শকিনো মাখে বললে-ঠাকরণ দিদি, আমি সেই থেকে চাল যোগাড় করবার জন্যে তিন-চার বাড়ী ঘরে বেড়িয়েচি।-- -কেন তোদের বাড়ী কি হোল ? -নেই । হাটে পায় নি। আজ । --হাটে কেন ? ক্ষেতের ধান ? —আ মাের কপাল! ক্ষের্তের ধান আর কনে! ছ’টাকা মণ যেমন হােল, অমনি কাকা সব ধান আড়তে নিয়ে গেল। গাড়ী পারে । বিক্রি করে নগদ টাকা ঘরে এনলে। ফি-জনে। জতো কোনলে, কাপড় কেনলে, কাকীমা ঘটি বাসন কেনলে, মাছ খালে, সন্দেশ খালে, মাংস খালে। নবাবী করে সে টাকাও উড়িয়ে ফেললে । এখন সে ধানও নেই, সে টাকাও নেই। ক’হাট কিনে খাতি হচ্ছে মোদেরও । --অন্য বাড়ী যে ঘরেলি বললি ? “মোদের পাড়ায় কারো ঘরে ধান নেই। ঠাকরণ দিদি। সব কিনে খাওয়ার ওপর ভরসা। ভান অচিলের গেরো খলতে খলতে বললে । -ওতে কি রে ? এক খাটি মোট চাল ওই ক্ষদে গয়লার নাত-বোয়ের কাছ থেকে চেয়ে-চিন্তে-হ্যাঁ, রে, তারা তো বড় গরীব। তুই আনলি, তাদের খাবার আছে তো ? দাঁড়া-সে আমি না জেনে আনি নি দিদি ঠাকরণ । ওরা লোকের ধান ভানে কিনা ? আট ঠা ধানে এক কাঠা ধান বানি পায় । বানির ধান ভেনে খোরাকি চালায় । অনঙ্গ-বেী একটু ভেবে বললে-আমার একটা উপকার করবি ভান ? -क ? -আচ্ছা সে পরে বলবো এখন । দে চাল ক'টা- —এক খািট চালি, রাতটা হবে এখন তো ? আর না হলিই বা কি করবা ঠাকরণ ? কত কন্টে যে চাল ক’ড যোগাড় ক’রে এনিচি তা আমিই জানি । গঙ্গাচরণ ভাত খেতে বসলো অনেক রাতে ৷ ডাল, ভাত আর পাইশাকের চচ্চড়ি । উঠোনেই সংগহিণী অনঙ্গ-বেী পইমাচা তুলে দিয়েছে, লাউমাচা তুলেছে, কিন্তু ডুস, কিছ নটেশকের ক্ষেত করেছে। হাব ও নিজে দজনে মিলে জল দিয়েছে আগে গ, তবে এই সব গাছ বেচে আজ তরকারি যোগাচ্ছে । অনঙ্গ-বেী বললে--আর দটাে ভাত মেখে নাও, ডাল দিয়ে পেট ভরে খাও-এ চাল দটাে ছিল বঝি আগের দরণে ? 一戈1 --কাল হবে ? --কাল হবে না। সকালে উঠেই চাল যোগাড় করে । রাতটা টেনেন্টুনে হয়ে গেল।