পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫২

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


S. অশনি-সংকেত --তুমি দেখোচ দিদি ? --দেখি নি, একশো দিন দেখিচি ৷ বলি, ঘর বলতি দ’খানা বাতাসা রেখে দিইছিলাম, ওমা সেদিন দেখি নেই সেটুকু। তুই চুরি করে খেয়েচিস। কে ঘরে ঢুকতে গিয়েচে তুই, ছাড়া ? ছেলেপিলের বালাই নেই যখন বাড়ীতে । কথাটা বোধ হয় নিতান্ত মিথ্যে নয়, কারণ এই কথার পর ছোট-বোয়ের কথার সাের ও তেজ কমে, গেল। সে বললে-খোইচি যাও, বেশ করিচি । আমার জিনিস না ? -বড় যে সৰত্ব দেখাচ্ছিস লা ! অনঙ্গ-বেী বললে-আহা, কি তুচ্ছ জিনিস নিয়ে দ’বেলা তোমাদের ঝগড়া। থামো না বাপ । বড়-বো বললে-আমি অন্যায় কথাটি কি বলিচি বামন-বোঁ তুমিই বিচের করা। ঘর বলে জিনিস লকিয়ে রাখি এই যজ্যের বাজারে । তুই সেগলো, উটকে উটকে চুরি করে খাস কেন ? অনঙ্গ-বেী বললে-ও ছেলেমানষে যে বড়-বোঁ । তোমার মেয়ে হােলে আজ অত বড় মেয়েই হোত । হোেত না ? -আমার মেয়ের পোড়াকপাল ! -ওমা সে কি, পোড়াকপাল কি ! ছোট-বোঁ দেখতে সশ্ৰী কেমন ? চেয়ে দেখতে পাও না ? দ’ চোখের কি মাথা খেয়েচ ! ছোট-বোঁ হঠাৎ বড় নরম হয়ে গিয়েছিল । সে বললে-নাও নাও বামন-বোঁ, তোমার আদিখ্যেতা দেখে আর বাঁচিনে । বড়-বো ছোট-বোয়ের দিকে আড়চোখে খানিকক্ষণ চেয়ে থেকে মািখ চোখ ঘারিয়ে হাত, নেড়ে অদ্ভুত ভঙ্গিতে বললে-আহা-হা ! বলি কত ঢং দেখালি লা ! ক্ষিত্তরী কাপালী বড়-বোয়ের চোখ মািখ ঘোরানোর ভঙ্গি দেখে পােনরায় হেসে গড়িয়ে প্রায় ঢেকির গড়ের উপর উপড়ে হয়ে পড়লো । মাখে অসংলগ্ন ভাবে যা বলতে লাগলো তা অনেকটা এই রকম-ওমা পোড়ানি-বড়-বোঁ-হাঁহি-কি কান্ড-হি হি-বলে কিনা-ও বামনেদিদি-হি হি-আমি আর বাঁচবো না-ওমা-হি হি-ইত্যাদি । কামার-বেী বললে-তা নাও, তুমি আবার যে এক কান্ড বাধালে ! গড়ে কপাল ছোঁচে * पास था । শ্রাবণ মাসের মাঝামাঝি অবস্থা দেখে অনঙ্গ-বোঁ যে এত আশাবাদী, সে পর্যন্ত ভয় খেয়ে গেল। ধান চাল হঠাৎ যেন কপরের মত দেশ থেকে উবে গেল কোথায় ! এক দানা চাল কোথাও পাওয়া যায় না। অত বড় গোবিন্দপরের হাটে চাল আসে না আজকাল । খালি ধামা কাঠা। হাতে দলে দলে লোক ফিরে যাচ্চে চােল অভাবে । হাহাকার পড়ে গিয়েচে হাটে হাটে । কুডুদের দোকানে যে এত চাল ছিল, বস্তা সাজানো থাকতো বালির বস্তার দেওয়ালের মত, সে গদাম আজকাল শান্যগভর্ণ। পথেঘাটে ক্রমশঃ ভিখিরীর ভিড় বেড়ে যাচ্চে দিন দিন, এরা এতদিন ছিল কোথায় সকলেই ভাবে, অথচ কেউ জানে না। এ দেশের লোকও নয়। এরা, বিদেশী ভিখিরী, একদিন অনঙ্গ-বেী রান্নাঘরে রক্ষা করাচে, হঠাৎ পাঁচ-ছটি অধউলঙ্গ জীণশীণ মন্ত্রীলোক, সঙ্গে তাদের সক্ষপণ উলঙ্গ বালক-বালিকা-ঘরের দাওয়ার ধারে দাঁড়িয়ে বলতে লাগলো-ফ্যান খাইতাম-ফ্যান খাইতাম