পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৫৯

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত 6: সভা বেশিক্ষণ চললো না । বিশ্ববাস মশায়ের কাছে যারা দরবার করতে এসেছিল, সবাই বাঝলে এখানে ডাল গলানো শক্ত। যে যার বাড়ী চলে গেল। গঙ্গাচরণ সংযোগ পেয়ে বললে-বিশ্ববাস মশায়, আমি কি না খেয়ে মরবো ? -কেন ? -বাজারে চাল অমিল। আর দদিন পরে উপেস শারী হবে । কি করি পরামর্শ দিন । -আমার বাড়ী থেকে দ'কাঠা চাল নিয়ে যাবেন। --তা দিয়ে ক'দিন চলবে বলন । প-কেন ? -আমার বাড়ীর পষ্যি, দ’তিনজন ও দ’কাঠা চাল নিয়ে ক'দিন খাবো ? আমার স্থায়ী একটা ব্যবস্থা না করলে এই বিপদের দিনে আমি কোথায় যাই ? পাঠশালা চালাই কি খেয়ে ? --আমার ধানচাল থাকতো তো বলতে পারা যেতো। কিন্তু আমার নেই। আজ ਕ ਕਸ਼ ਜਲ গঙ্গাচরণ চাল নিয়ে চলে গেল । সে রাত্রে বিশ্ববাস মশায় আহারাদির পর পাকুবপাড় থেকে গর, আনতে গিয়েছেন, কারণ সেখানেই তাঁর গোয়াল-এমন সময় দজন লোককে গাছের আড়ালে দেখে বলে উঠলেনওখানে কে ? ~-- - সঙ্গে সঙ্গে তারা এসে বিশ্ববাস মশায়েব মাথায় সজোরে এক লাঠি বসিয়ে দিলে। এর পর ওরা তাঁকে পাকুরপাড়ের বাবলা গাছের সঙ্গে মোটা দড়া দিয়ে বেধে ফেললে। বিশ্ববাস মশায়ের জ্ঞান রইল না বেশিক্ষণ, মাথার যন্ত্রণায় ও রাস্তুপা৩ে { জ্ঞান হয়ে প্রথমেই দেখলেন সমযের আলো জািনলা দিয়ে এসে পড়েচে, তাঁর বিধবা বড় মেয়ে তাঁর মাখের ওপর ঝাঁকে পড়ে কাঁদচে । বিশদ্বাস মশায় বলে উঠলেন-ডাকাত ! ডাকাত ! বড় মেয়ে সৌদামিনী বললে-ভয় কি বাবা ? আমি-আমি যে-এই দ্যাখো । বিশ্ববাস মশায় ফ্যালফ্যাল চোখে সম্পদগধ দন্টিতে মেয়ের দিকে চেয়ে চুপ করে রইলেন । সৌদামিনী বললে--বাবা কেমন আছ ? বিশ্ববাস মশায় একবার ডাইনে বয়ে সতকাতার সঙ্গে চেয়ে দেখে চুপি চুপি বললে-সব নিয়ে গিয়েচে ? --কি বাবা ? --সেই সব । --তুমি কিছদ ভেবো না বাবা। সব ঠিক আছে। --সেই ষা আড়ায় তোলা আছে ? বস্তা ? --কিছ নেয় নি । -আমাকে নিয়ে গিয়ে দেখা মা সৌদামিনী বাপের মাথায় সস্নেহে হাত বলিয়ে বললেন-তুমি সেরে সেমলে ওঠে, আমি কি মিথ্যে বলচি তোমারে ? আড়ার ওপর যে বস্তা রেখিলে তা কেউ নেয় নি।