পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৮৩

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত AS ‘গঙ্গাচরণ জিজ্ঞেস করলে—শয়ে কেন ? শরীর ভালো তো ? দেখিঅনঙ্গ-বেী যন্ত্রণাকাতর হয়ে বললে-কাউকে ডাকো । --কাকে ডাকবো ? -কােপালীদের বড়-বোঁকে ডাকো চট করে । শরীর বহুত খারাপ । গঙ্গাচরণ বড় ছেলেকে বললে-দৌড়ে যা কােপালী-বাড়ী-বলগে এক্ষণি আসতে হবে। মারা শরীর খারাপ অনঙ্গ-বেী যশস্ত্রণায় চীৎকার করতে লাগলো, কখনো ওঠে। কখনো বসে। যপিবদ্ধ আত পশর মত চীৎকার। গঙ্গাচরণ নিরাপায় অবস্থায় বাইরের দাওয়ায় বসে তামাক টানতে লাগলো। তখন সম্পধ্যা হয়ে গিয়েচে, আকাশে পশ্চিমী তিথির এক ফালি চাঁদও উঠেচে } ঝিঝি’ ডাকচে লেব-ঝোপে। গঙ্গাচরণ আর সহ্য করতে পারচো না। অনঙ্গ-বৌয়ের চীৎকার। ওর চোখে প্রায় জল এল । ততক্ষণে বাড়ীর মধ্যে আশেপাশের বাড়ীর মেয়েছেলে এসে fact ওদের মধ্যে একজন বৰ্ষীয়সীকে ডেকে গঙ্গাচরণ উদভ্ৰান্ত সরে জিজ্ঞেস করলে-হ্যাঁ निर्गनभा, बलि ७ अभन्न काgछ gकन ? ঠিক সেই সময় একটা যেন মদ, গোলমাল উঠলো। একটি শিশকণ্ঠের ট্যা ট্যাঁ কান্না শোনা গেল । বর-কয়েক শকি বেজে উঠলো । সতীশ কােপালীর মেয়ে বিন্দি বাড়ীর ভেতর থেকে ছটে এসে বললে-ও দাদাবাব, বৌদিদির খোকা হয়েচে-এখন সন্দেশ বের করুন। আমাদের জন্যে।--দিন টাকা গঙ্গাচরণের চোখ বেয়ে এবার সত্যিই ঝায়। ঝর করে জল পড়লো । তার পর দিনকতক সে কি কািট ! প্রসতিকে খাওয়ানোর কি কন্ট । না একটু চিনি, না। আটা, না মিছরি। অনঙ্গ-বৌ শয়ে থাকে, নবজাত শিশ ট্যা-ট্যা করে কাদে, গঙ্গাচরণ কােপালীদের বড়-বোঁকে বলে-ওর খিদে পেয়েছে, মাখে একটু মধ্য দ্যাও খড়ী --মধ্য খেয়ে বমি করেছে দাবার। মধ্য পেটে রাখছে না। —তবে কি দেবে খড়ী, দধি একটু জৰাল দিয়ে দেবো ? --অত ছোট ছেলে কি গাইয়ের দািধ খেতে পারে ? আর ইন্দিকি অতুিড়ে পোয়াতি “ঘরে, তার খাবার কোনো যোগাড় নেই। হিমা হয়ে বসে থাকলে চলবে না। বাবাঠাকুর, এর যোগাড় কর । গ্রামে কোন কিছ মেলে না, হাটেবাজারেও না । আটা সাজি বা চিনি আনতে হোলে যেতে হবে মহকুমা শহরে সাপলাই অফিসারের কাছে। গঙ্গাচরণ দ-একজনের সঙ্গে পরামর্শ করে ঠিক করলে, মহকুমা শহরেই যেতে হবে। সাড়ে সাত ক্রোশ পথ । সকালে রওনা হয়ে বেলা এগারোটার সময় সেখানে পৌছলো। এখানে দোকানে অনেক রকম জিনিস পাওয়া যাচ্ছে। গঙ্গাচরণের হাতে পয়সা নেই, জলখাবারের জন্য মাত্ৰ দ'আনা রেখেছিল, কিন্তু খাবে কি, চিড়ে পাঁচসিকে সের, মড়িও তাই। মড়ক চোখে দেখবার জো নেই। দ’আনার মাড়ি একটা ছোট্ট বাটিতে ধরে।