পাতা:অশনি সংকেত - বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়.pdf/৯৭

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


অশনি-সংকেত ఏ মাকে এসে ও সব কথা বললে । অনঙ্গ-বেী বললে, ময়নাকে নিয়ে যা, দজনে ধরাধরি করে নিয়ে এসে বাইরের পৈ'ঠেতে শাইয়ে রেখে দে ময়না। হাসিখশি-প্রিয় চঞ্চলা মেয়ে। সে বললে-আমরা আনতে পারবো ? কি জাত কাকীমা ? -5 | ময়না নাক সিটিকে বললে-ও মচিকে ছতে গেলাম। বই কি এই ভরসন্দে বেলা ? আমি পারবো না, আমি না বামনের মেয়ে ? বলেই হাসতে হাসতে হবার সঙ্গে বেরিয়ে চলে গেল । দজনে গিয়ে দেখলে মতি সেইভাবেই শহয়ে আছে, সেই একই দিকে ফিরে । ওর মাথার শিয়রে সেই কচুবাটী, পাশে একটা মাটিয়া ভাঁড়। ময়না গিয়ে ডাকলে, ও মতি काना नाट्रा-भजन नई । ময়না। হাবীর চেয়ে বয়সে বড়, বন্ধিসদ্ধি তার আরও একটু পেকেচে, সে আরও কাছে এগিয়ে গিয়ে ভাল করে দেখে বললে, কাকাবাব, বাড়ী থাকেন তো ডেকে নিয়ে আয় দিকি ! হাব বললে-কেন ? -আমার যেন কেমন কেমন মনে হচ্ছে হাব, একজন কোনো বড় লোককে ডেকে নিয়ে আয় দিকি ! এমন সময়ে দেখা গেল কােপালীদের ছোট-বেী সে পথে আসচে। ময়না বললে-ও মাসি, শোনো ইন্দিকে --কি ? -এসে দেখে যাও, মতি-দিদি কথাবাতা বলচে না, এমন করে। শয়ে আচে। কেন ? ছোট-বেী তাড়াতাড়ি এগিয়ে এসে ভাল করে দেখলে । মতি মারা গিয়েচে । সে আর উঠে কচুবাটা খাবে না, ভাঁড়েও আর খাবে না জল । তার জীবনের যা কিছু সঞ্চয়, তা পথের ধারেই ফেলে রেখে সে পরপারে চলে গিয়েচে । ছোট-বো। আর ময়নার মাখে সব শনে অনঙ্গ-বেী হাউ হাউ করে কাঁদতে লাগলো। গ্রামে থাকা খাব মশাকিল হয়ে পড়লো মতি মািচনীর মােত্যু হওয়ার পরে । অন্যহারে মন্ত্যু এই প্রথম, এর আগে কেউ জানত না বা বিশ্ববাসও করে নি যে অনাহারে আবার মানষি মরতে পারে। এত ফল থাকতে গাছে গাছে, নদীর জলে এত মাছ থাকতে, বিশেষ করে এত লোক যেখানে বাস করে গ্রামে ও পাশের গ্রামে, তখন মানষে কখনো না খেয়ে মরে ? কেউ না কেউ খেতে দেবেই । না খেয়ে সত্যিই কেউ মরবে না। কিন্তু মতি মাচিনীর ব্যাপারে সকলেই বাকলে, না খেয়ে মানষে তাহলে তো মরতে পারে। এতদিন যা গল্পে-কাহিনীতে শোনা যেতো, আজ তা সম্পভবের গড়ির মধ্যে এসেপৌছে গেল। কই, এই যে একটা লোক মারা গেল না খেয়ে, কেউ তো তাকে খেতে দিলে না ? কেউ তো তাকে মাতৃত্যুর হাত থেকে বাঁচাতে পারলে না ? সকলের মনে বিষম একটা আশঙ্কার সন্টি হেল। সবাই তো তাহােলে না খেয়ে মরতে পারে!