পাতা:অষ্টাঙ্গ হৃদয় - বাগ্‌ভট.pdf/৫৫

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


SR t: ) সুত্রস্থান। N) কাৰ্য্যকারক), প্লক্ষ (অপয়ষ), মৃৎক্স (পিচ্ছিল, যাহা অঙ্গুলি দ্বারা মর্দন করিলে চট্ট চট্ট করে ) ও স্থির। স্বপ্রমাণাধিক বা ক্ষীণ দোষদ্বয়ের সংযোগকে সংসৰ্গ এবং দোষত্ৰয়ের সংযোগকে সন্নিপাত বলে ॥ ১২ রস, রক্ত, মাংস, মেদ, অস্থি, মজ্জা ও শুক্র এই সাতটী ধাতু। এই রসাদি সপ্ত পদার্থ শরীরকে ধারণ করে বলিয়া ধাতু নামে অভিহিত হয়। আর বাতাদি দোষ কর্তৃক ইহারা দূষিত হয় বলিয়া ইহাদিগকে দুন্যও বলা যায় ৮ মল মুত্র ও স্বেদাদিকে মল কহে। ইহারাও বাতাদি দোষ কর্তৃক দূষিত হয় বলিয়া দুন্য নামে কথিত হইয়া থাকে। অতএব রসাদি সাতটী পদার্থের দুন্য ংজ্ঞা ও ধাতুসংজ্ঞা, এবং মলমূত্রাদির মিল সংজ্ঞা ও দূষ্য সংজ্ঞা উভয়ই নির্দিষ্ট হইল। শরীরস্থ “সৰ্ব্বপ্রকার দোষ ধাতু ও মলাদির সহিত তৎসমানধৰ্ম্মবিশিষ্ট দ্রব্য গুণ ও কৰ্ম্মের সংযোগ হইলে তাহাদের বৃদ্ধি এৰং বিপরীতভাবান্বিত দ্রব্যাদির ব্যবহারে তাঁহাদের ক্ষয় হয়। ১৩ রস ছয় প্রকার। যথা-মধুর, অম, লবণ, তিক্ত, কটু ও কষায়। ব্ৰািসনেন্দ্ৰিয়গ্ৰাহ বলিয়া ইহাদিগকে রস বলে। এই সকল রস, পঞ্চভূতাত্মক দ্রব্যকে আশ্রয় করিয়া অবস্থিতি করে। ইহাদের মধ্যে পুর্ব পূর্ব রস যথাক্রমে বলবৰ্দ্ধক অর্থাৎ কষায় রস অপেক্ষা কাঁটুরস, কটুরস অপেক্ষা তিক্তরস বলবৰ্দ্ধক। এই ক্ৰমে মধুর রস সর্বাপেক্ষা বলজনক, এবং কষায় রস সর্বাপেক্ষ অল্প বলোৎপাদক ৷৷ ১৪

  • এই ছয় প্রকার রসের মধ্যে আদ্য ত্ৰিবিধ রস অর্থাৎ মধুর অন্ম ও লবণরস বায়ুক নাশ করে। তিক্ত কটুও কঁবায় রস কাফকে এবং কষায় তিক্ত ও মধুর রস পিত্তকে নষ্ট করিয়া থাকে। অপর, তিক্ত কুটু ও কর্ষীয়রাির্স বায়ুকে, মধুর অন্ন ও লবণরস কাফকে এবং অন্ন লবণ ও কটুরিস পিত্তকে বৰ্দ্ধিত করে। ১৫

উক্ত রসসমূহের আশ্ৰীয় দ্রব। দ্রব্য তিন প্রকার যথা-শমন, কোপন ও স্বস্থাহিত। তন্মধ্যে যে সকল দ্রব্য কুপিত দোষের শাস্তি করে, তাহাদিগকে শমন দ্রব্য কহে। যথা তৈল ঘৃত মধু প্ৰভৃতি। আর যে দ্রব্য বাতাদিদোষ গ্লসাদি ধাতু ও মূত্রাদি মল পদার্থকে কুপিত করে, তাহাদিগকে কোপন কহে। যথা দুগ্ধ মৎস্ত প্রভৃতি সংযোগৰিৱন্ধ দ্রব্য। আর যাহা স্বপ্রমাণস্থিত দোষ ধাতু ও মলপদার্থসমূহের সাম্য রক্ষা করে তাঁহাকে স্বস্থাহিত বলে। যথা রক্তশালি যাব গােধূম প্রভৃতি। এই সমস্ত দ্রব্যে শীতােষ্ণভেদে বিবিধ বীৰ্য অবস্থিত। যে সকল দ্রব্যে ( বিংশতি প্ৰকার গুণের মধ্যে) শীতগুণের আধিক্য তাহাদিগকে শীতবীৰ্য্য এবং যাহাঁতে উষ্ণগুণের উৎকর্ষ তাহাদিগকে উষ্ণবীৰ্য্য বলে।” দ্রব্যের শক্তিকে বীৰ্য্য কহে। দ্রব্যের বিপাক ত্ৰিবিধ ; যথা-মধুর বিপাকু, অল্পবিপাক ও কটুবিপাক। ভুক্ত দ্রব্য জাঠিরাগ্নি দ্বারা পরিপাক প্রাপ্ত হইলে তাঁহা হইতে যে রসান্তরের উৎপত্তি হয় তাহাকে বিপােক বলে। মধুর ও লবণরসের বিপাক মধুর, আঁদ্ধরসের বিপাক অন্ন এবং কটু তিক্ত ও কষায় রসের বিপাক কটু ॥ ১৬ দ্রব্যের গুণ। দ্রব্যে বিংশতিপ্রকার গুণ অবস্থিত। " যথা-গুরষ্ট মন্দ, হিম, স্নিগ্ধ, শ্লক্ষ, সাক্স (ঘন ), মৃদু, স্থির, সুন্ম ও বিশদ এই দশটি এবং ইহাদের বিপরীত যথাক্রমে লঘু তীক্ষ, উষ্ণ, রূক্ষ, খর, দ্রব, কঠিন, সর, স্কুল ও পিচ্ছিল এই দশটি ; সমুদায়ে বিংশতি প্রকায় ॥১৭