পাতা:অষ্টাঙ্গ হৃদয় - বাগ্‌ভট.pdf/৬০

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


তৎপরে ( দস্তুধাবনের পর ) চক্ষুর নিত্য হিতকারক রসাজন নোত্রে প্রয়োগ করিবে । ( পাঠান্তর নিত্য রসাঞ্জন ব্যবহার করিলে চক্ষুদ্বয় সুন্নিগ্ধ, ঘনপাল্পবিশিষ্ট, বিমল, মনোজ্ঞ, সূক্ষ্মবস্তু দর্শনক্ষম ও ব্যক্তিত্ৰিবৰ্ণ অর্থাৎ সুব্যক্তিশ্বেতকৃষ্ণরক্ত হইয়া থাকে)। চক্ষুঃ তেজোময়ী, তেজোবিরোধী শ্লেষ্মা চক্ষুর ভয়ের কারণ, অতএব নেত্ৰে সঞ্চিত জল আবার্থ সপ্তাহের পর রসাজন প্রয়োগ হিতকর ॥ ৫ . R অঞ্জন গ্রহণের পর ন্যস্ত গ্ৰহণ, গঙুষধারণ, ধূমপান ও তাম্বুল ভক্ষণ করিবে ॥ ৬ ক্ষতরোগী, রক্তপিত্তরোগী, রুক্ষব্যক্তি, উৎকুপিতচক্ষুঃ (যাহাদের চক্ষু দিয়া জল বা পিচুটি পড়ে), বিষাৰ্ত্ত, মূৰ্ছাৰ্ত্ত বা মদাত্যয় রোগাক্রান্ত কিংবা শোষরোগী। ইহাদের পক্ষে তাম্বুল অপথ্য ৷ ৭ প্রতিদিন তৈল্যাভ্যঙ্গ করিবে ( অভ্যাসবশতঃ দুই এক দিন অন্তর তৈল মাখিলেও তাঁহাতে দোষ হয় না। )। নিত্য তৈলাভাঙ্গ করিলে জরা শ্ৰান্তি ও বায়ুর নাশ, দৃষ্টির প্রসন্নতা, শরীরের পুষ্টি, আয়ুর বৃদ্ধি, ত্বকের সৌন্দৰ্য্য ও দৃঢ়তা এবং সুনিদ্রা হইয়া থাকে ॥ ৮ মস্তক কর্ণদ্বয় ও পাদদ্বয়ে বিশেষভাবে তৈল মাখিবে । কফিরোগী অজীর্ণরোগী ও কৃতসংশুদ্ধি ( যাহাঁদের বমন বিরোচনাদি দ্বারা সংশোধন করা হইয়াছে) ব্যক্তির পক্ষে তৈলাভ্যঙ্গ নিষিদ্ধ ॥ ৯ শরীরের আয়াসজনক কাৰ্য্যকে ব্যায়াম কহে। ব্যায়াম হইতে শরীর লঘু, কৰ্ম্মে সমৰ্থ, সুবিভক্ত ও দৃঢ় হয় এবং অগ্নির দীপ্তি ও কফের ক্ষয় হইয়া থাকে ॥ ৪০ বাতপিত্তরোগী (বায়ুরোগ, পিত্তরোগ বা বাতপিত্তঙ্গ রোগগ্ৰস্ত ব্যক্তি ), বালক ( ষোড়শ বৎসরের নূ্যন বয়স্ক), বৃদ্ধ (সত্তর বৎসরের অধিক বয়স্ক) ও অজীর্ণ রোগাক্ৰান্ত ব্যক্তির ব্যায়াম নিষিদ্ধ। বলবান ও স্নিগ্নভোজিপুরুষের অৰ্দ্ধশক্তিতে (পরিশ্রমের পূর্ব পৰ্যন্ত) ব্যায়াম কৰ্ত্তব্য। শীত ও বসন্তকাল ব্যায়ামের উপযুক্ত সময়। অন্য . ঋতুতে “অল্প ব্যায়াম করিবে । ব্যায়ামের পর সমস্ত শরীর সুখকররূপে মর্দন করাইতে হয়৷ ১১১২ অতিব্যায়াম দ্বারা তৃষ্ণা, ক্ষয়রোগ, প্ৰতম্যক শ্বাস, রক্তপিত্ত, শ্ৰান্তি, ক্লাস্তি, কাস, জর ও বমিরোগ জন্মে৷ ১৩ ব্যায়াম, রাত্ৰিজাগরণ, পথশ্ৰম, স্ত্রীসহবাস, হঁাস্ত, ভাষণাদি ও সাহস এই সকল বিষয়ের অতিসেবন দ্বারা মানব, অতিবৃহৎকায় গজকে আক্রমণকারী সিংহেরু পৃষ্ঠায় বিনাশপ্ৰাপ্ত হইয়া থাকে। অর্থাৎ সিংহ যেমন অতিবল হস্তীকে আক্রমণ করিয়া নষ্ট হয় তদ্রুপ মনুষ্য বলাতিরিক্ত ব্যায়ামাদি করিলে অদ্বারা বিনষ্ট হইয়া থাকে। ১৪ adh ব্যায়ামের পর উদ্বাৰ্ত্তন করিতে হয়। (তৈলাভ্যাঙ্গের পর পেষিত আমলকী হরিদ্রাদি দ্বারা গাত্র মর্দন করাকে উদ্বাৰ্ত্তন কহোel ) উদ্বাৰ্ত্তন কফিহারক, মেদের বিলয়কারক, শরীরের দৃঢ়তাসম্পাদক ও ত্বকের প্রসন্নতাজনক | ১৫ উদ্বর্তনের পর স্নান কৰ্ত্তব্য। স্নান দ্বারা অগ্নির দীপ্তি, শুক্র, আয়ুঃ, উৎসাহ ও বলের বৃদ্ধি এবং কণ্ডু, মল, শ্ৰান্তি, ঘেঁদ, তন্দ্ৰ, পিপাসা, দাহ ও পাপের নাশ হয় ॥ ১৬ গরম জল দ্বারা অধঃকায়ের পরিষেক করিলে শরীরের বলবৃদ্ধি হইয়া থাকে। কিন্তু, তদ্বারামন্তক পরিষিক্ত করিলে কেশ ও চক্ষুর বলহানি হইয়া থাকে ৷ ১৭