পাতা:আখ্যানমঞ্জরী (প্রথম ভাগ) - ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর.pdf/২৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা হয়েছে, কিন্তু বৈধকরণ করা হয়নি।

১৮

আখ্যানমঞ্জরী।

ধর্ম্মভীরুতা।

পোর্টুগালের রাজধানী লিসবন নগরে অতি নিঃস্ব এক বিধবা স্ত্রী বাস করিত। সে, ১৭৭৬ খৃষ্টাব্দে, এক দিবস রাজবাটীতে উপস্থিত হইল, এবং রাজার সহিত সাক্ষাৎ করিবার প্রার্থনা জানাইল। রাজপুরুষেরা, “তোর মত লোকের রাজার সহিত সাক্ষাৎ হইবার সম্ভাবনা নাই, তুই এখান হইতে চলিয়া যা” এই বলিয়া তাড়াইয়া দিল। সে, তাহাতে ক্ষান্ত না হইয়া, প্রত্যহ যাতায়াত করিতে লাগিল, রাজপুরুষেরা প্রত্যহ তাহাকে তাড়াইয়া দিতে লাগিল।

 অবশেষে, এক দিবস, সে রাজাকে পদব্রজে গমন করিতে দেখিয়া, তাঁহার নিকটে উপস্থিত হইল, এবং সম্মুখে একটি বাক্স ধরিয়া কহিল, মহারাজ। কিছুকাল পূর্ব্বে ভূমিকম্প হওয়াতে যে সকল অট্টালিকা পতিত হইয়াছিল, তাহার মধ্যে আমি এই বাক্সটি পাইয়াছি, আমি নিতান্ত দুঃখিনী, আমার ছয়টি সন্তান, অতি কষ্টে দিনপাত করি। এই বাক্সের মধ্যে যে সকল মহামূল্য বস্তু আছে, সে সমুদয় আত্মসাৎ করিলে, আমার দুরবস্থা বিমোচন হয়, আমার পুত্রেরা ধনবান্ বলিয়া গণ্য হইয়া, চিরকাল সুখে ও স্বচ্ছন্দে কাল যাপন করিতে পারে। কিন্তু, মহারাজ, এ পরস্ব, পরস্ব হরণ করা অতি গর্হিত কর্ম্ম। অপকর্ম্ম করিয়া পৃথিবীর সমস্ত সম্পত্তি পাওয়া অপেক্ষা, ধর্ম্মপথে থাকিয়া দুঃখে কালযাপন করা ভাল। আমি এই বাক্স আপনার হস্তে সমৰ্পণ করিতেছি। যে ব্যক্তি ইহার যথার্থ