পাতা:আগামীকাল - শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়.pdf/৬

এই পাতাটির মুদ্রণ সংশোধন করা প্রয়োজন।


কানাকড়িও নয়, বরঞ্চ রোগের বীজাণ ছাড়াবার আশংকা আছে। চলন, সদস্যবন্দ সমাগত হবার পাবে দেশলাই জৰালিয়ে সংকার করে ফেলা যাক । এককড়ি ধীরে ধীরে জিজ্ঞাসা করলে, আজ তোমার হলো কি জলধি ? জলধি বললে, কি হয়েছে সে বিবরণ আপনাকে সবিন্ডারে দেবার নয় । মণিমালা উপস্থিত থাকলে সে হয়ত আপনাকে বঝিয়ে দিতে পারতো। এককড়ি আবার কিছুক্ষণ চুপ করে চেয়ে রইলো, বোধ হয় মনে মনে কারণ বোঝবার চেন্টা করলে, কিন্তু কিছই সাপটি হ’লো না । প্রশন করলে, তোমার দ্বিতীয় अनब्राई ? জলধি বললে, এটা আরও বেশী দরকারি দাদা। আপনার মামা মস্ত লোক, তাঁকে ধরে করপোরেশনে হোব, মিটনিসিপ্যালিটিতে হোক, জেলাবোডে হোক, ইনসিওর কোম্পানিতে হোক,-অর্থাৎ আপনাদের পদ্ধবরাজ-পান্ডারা যেখানে বেশ এবটি আসনপাড় হয়ে বসতে পেরেছেন, আমার চাকরি একটা করে দিন। যেন দ'মঠা খেতে পরতে পাই। এককড়ি ক্ষমধ মাখে, কাতর ঘরে বললে, দােমঠো খেতে পারতে কি পাও না পাই বৈ কি দাদা, নইলে বেচে আছি কি করে ? দেশের সেবা করি, একেবারে নিঃসবাৰ্থ । গোলামি কারনে বলে বলে লোক ঠকিয়ে ইজ্জত বজায় করি।--ডান-হাতটা ত রেখোঁচ দিনরাত বস্তুর ঘষিতে পাকিয়ে ! তব, অলক্ষ্যে অগোচরে বাঁ-হাতের তোেলার পরে আপনার ছিটেফোঁটা মণিটভিক্ষে যা এসে পড়ে তাতেই শোধ করি মেসের দেনা, খন্দরের বিল। কুকুর-বিড়ালে যেভাবে বাঁচে প্রায় তেমনি। আপনি বড়লোক, বিশ-পাঁচশ-পঞ্চাশ আপনার হিসেবের মধ্যেই নয়। কিন্তু আর নয় দাদা, এর থেকে ছাঁট দিন । এককড়ি চুপ করে রইলো, কথা কইলে না। দেয়ালের ঘড়িতে পাঁচটা বাজিলো। ঘে ঢাকারটা তামাক বদলে দিতে ঢকেছিল তাকে বললে, গোপাল, নীচে থেকে মণিদিদিকে ডেকে দিয়ে যা ত । জলধি, পরের কাছে লক্ষজাই যদি বোধ করো না-না দাদা, পর কোথায় ? ষে সব মহাত্মাদের মাঝে ঘোরাফেরা করি তাঁরা সবাই অন্তরঙ্গ, সবাই আত্মীয়। তাঁদের অজানা কিছই নেই । বছর দশেক চােদশসেবা-ব্রিতে লেগে আছি, লতাজা থাকলে বাঁচবো কেন ? চাকরাটা গড়গড়ির মাথায় কলকে রেখে নীচে যাচ্ছিলো, জলধি তাকে বায়ণ করে বললে, তোর কাজে যা। একটি হেসে বললে, মণিমালা আসেনি এককড়িদা, মিছে সি ভাঙ্গিয়ে ওকে লাভ কি ? আসেনি ? এমনধারা ত কখনো হয় না। হয় না বলেই হতে নেই দাদা ? আজ তার দেহটা একটি বে-এস্তার -আমিই আসতে বরণ করে দিয়েছি।